টুথপেস্টে মারাত্মক ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালত থেকে এ বিষয়ে তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গঠিত এই কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন রিটকারী আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, শিল্প সচিব এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ মোট আটজনকে এই রিট পিটিশনে বিবাদী করা হয়েছে।
জাতীয় মান অনুসারে বাজারে থাকা টুথপেস্টের গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুল জারির আবেদনও করা হয়েছে। সম্প্রতি দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টের ওপর পরিচালিত একটি উদ্বেগজনক গবেষণা প্রতিবেদন যুক্ত করে এই জনস্বার্থমূলক রিটটি দায়ের করা হয়।
গবেষণার তথ্যানুযায়ী, আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহৃত টুথপেস্ট নিয়ে এক নতুন আশঙ্কার চিত্র ফুটে উঠেছে। দেশীয় বাজারে প্রচলিত টুথপেস্টের প্রায় চারটির মধ্যে তিনটিতেই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের টুথপেস্টেই নয়, কোমলমতি শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি টুথপেস্টেও মিলেছে এই ক্ষতিকর কণা।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন বা এসডো দীর্ঘ এক বছর ধরে এই গবেষণা পরিচালনা করে। তারা দেশের প্রচলিত ১৯টি ব্র্যান্ডের মোট ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে দেখেছে। এর মধ্যে ২৬টি নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা মোট নমুনার প্রায় ৭৬.৫ শতাংশ। গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত প্লাস্টিক কণা শনাক্ত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে ইতিপূর্বেই বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্ট নিয়ে এটিই প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা। গবেষকরা জানিয়েছেন, কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এই গবেষণার লক্ষ্য নয়, বরং ভবিষ্যতের সঠিক নীতিনির্ধারণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তথ্য সরবরাহ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
