গোপালগঞ্জে সবজি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক হাজার কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনার আওতায় ৩০ হাজার কেজি সার ও বিভিন্ন জাতের সবজির বীজ বিতরণ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের দাবি, এ সহায়তা সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে চলতি মৌসুমে জেলায় সবজি উৎপাদন আরও বাড়বে এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গোপালগঞ্জ সদরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘কৃষক কার্ড বিষয়ক অবহিতকরণ সভা ও কৃষি প্রণোদনা উপকরণ বিতরণ’ অনুষ্ঠানে কৃষকদের হাতে সার ও বীজ তুলে দেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর কৃষকদের হাতে এ উপকরণ তুলে দেন।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গোপালগঞ্জের উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান। এ সময় বক্তব্য দেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজা আক্তার।
কৃষি বিভাগ জানায়, উপজেলার এক হাজার কৃষকের প্রত্যেককে ১৫ কেজি ডিএপি ও ১৫ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চিচিঙ্গা, কলমি শাক, মিষ্টি কুমড়া, পুঁইশাক, লাউ, চালকুমড়া, শসা ও বেগুনসহ বিভিন্ন জাতের গ্রীষ্মকালীন সবজির বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় মোট ৩০ হাজার কেজি সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বলেন, কৃষিকে আরও উৎপাদনমুখী ও লাভজনক করতে সরকার কৃষকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গোপালগঞ্জের উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান বলেন, সময়মতো সার ও উন্নতমানের বীজ কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ায় চলতি মৌসুমে সবজি আবাদ সম্প্রসারণের পাশাপাশি উৎপাদনও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি, দামের স্থিতিশীলতা এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে সদর উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবরকে শুভেচ্ছাস্মারক হিসেবে একটি হাড়িভাঙ্গা আমের চারা উপহার দেওয়া হয়।
এ সময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিপুলসংখ্যক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।