ফুটবল উত্তেজনার মাঝে বিশ্বকাপের গ্যালারিতে ভোজন-উৎসবের রেকর্ড

মাঠের লড়াইয়ে রোমাঞ্চ আর রেকর্ডের ঝড় তো ছিলই, তবে ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপ ইতিহাসের পাতায় এগিয়ে থাকবে মাঠের বাইরের আকাশচুম্বী পরিসংখ্যানের জন্যও। ৩৯ দিনব্যাপী চলা বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় এই আসরে গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করার পাশাপাশি লাখো ভক্ত মেতে উঠেছিল খাদ্য ও পানীয়ের উৎসবে।

ফিফার সদ্য প্রকাশিত তথ্য বলছে, ভক্তদের এই উচ্ছ্বাস ও বিপুল জনস্রোত সামাল দিতে গিয়ে আয়োজকদের সম্পন্ন করতে হয়েছে এক অবিশ্বাস্য ও বিশাল কর্মযজ্ঞ। সেই পরিসংখ্যান মতে, টুর্নামেন্ট চলাকালীন স্টেডিয়ামগুলোতে উপস্থিত দর্শকেরা পান করেছেন রেকর্ড ৫৫ লাখেরও বেশি বিয়ার ক্যান। এর পাশাপাশি প্রায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার হটডগ এবং ৪৬ লাখের বেশি বোতলজাত পানি ও কোমল পানীয়। শুধু স্টেডিয়ামের ভেতরের গ্যালারিই নয়, স্টেডিয়ামের বাইরে উত্তর আমেরিকা জুড়ে আয়োজিত ফ্যান ফেস্টগুলোতেও উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে, যেখানে অংশ নিয়েছেন ৯০ লাখেরও বেশি উৎসুক দর্শক।

৬৮ লাখের বেশি স্টেডিয়াম দর্শকের ক্ষুধা ও তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি পুরো টুর্নামেন্টের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিন দেশের ১৬টি হোস্ট সিটিতে মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল বাহিনী। ১০৪টি ম্যাচের এই বিশাল আসর সফলভাবে সম্পন্ন করতে কাজ করেছেন ৪৩ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবী এবং ৭৩ হাজার ৭০০ জন অনুমোদিত পেশাদার নিরাপত্তাকর্মী। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ পেশাদার প্রতিনিধির দিনরাতের পরিশ্রমে সফলভাবে পর্দা নামে এই মেগা ইভেন্টের।

এই মহাযজ্ঞের সমাপ্তি হয় গত ১৯ জুলাই। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গড়ানো ফাইনালের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে স্পেন। ম্যাচের নির্ধারিত সময় গোলশূন্য থাকার পর, অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় অর্ধে বদলি নেমে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস।