সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) বিশ্বের প্রথম সমন্বিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই)আইনি প্ল্যাটফর্ম চালুর ঘোষণা দিয়েছে। সরকারের দাবি, এটি বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ এআই-চালিত বিচারিক ব্যবস্থা, যা মানবিক তত্ত্বাবধান ও যাচাইয়ের মাধ্যমে বিচারিক ও আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।
মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট, উপপ্রধানমন্ত্রী এবং প্রেসিডেনশিয়াল কোর্টের চেয়ারম্যান শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বলেন, 'বিশ্বে প্রথমবারের মতো সমন্বিত এআইভিত্তিক বিচারিক প্ল্যাটফর্ম চালুর মাধ্যমে ইউএই আরও একটি বৈশ্বিক অর্জন যুক্ত করল। আমরা বিশ্বাস করি, উদ্ভাবনই আরও দক্ষ, দ্রুত ও কার্যকর বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ। এই উদ্যোগ সরকারি ও বিচারিক কার্যক্রম উন্নয়নে ইউএইকে বৈশ্বিক মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।'
আবুধাবি বিচার বিভাগ (আবুধাবি জুডিশিয়াল ডিপার্টমেন্ট) এবং আবুধাবি গভর্নমেন্ট এমপাওয়ারমেন্ট ডিপার্টমেন্ট যৌথভাবে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে সমন্বয় সভা করেছে। সেখানে বিশ্বের প্রথম সমন্বিত ‘জুডিশিয়াল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিচারিক ও আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হবে। তবে প্রতিটি সিদ্ধান্তই মানবিক তত্ত্বাবধান ও যাচাইয়ের আওতায় থাকবে। এর ফলে বিচারিক প্রক্রিয়ার গতি বাড়বে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নির্ভুলতা ও সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পটির যৌথ পরিচালনা কমিটির প্রধান এবং আবুধাবি বিচার বিভাগের আন্ডারসেক্রেটারি ইউসুফ সাঈদ আল-আবরি জানান, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে প্রথম ধাপে প্ল্যাটফর্মটির কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে ১৮ মাসের মধ্যে পুরো বিচারিক ব্যবস্থায় এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের উদ্ভাবননির্ভর রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শনের প্রতিফলন। একই সঙ্গে শেখ মনসুর বিন জায়েদের নির্দেশনা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বিচারব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করে তোলার অংশ হিসেবেই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আল-আবরি আরও বলেন, নতুন এআই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রমে সমন্বিত স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। মামলার বিভিন্ন ধাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা, সিদ্ধান্তের নির্ভুলতা ও গুণগত মান বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও শক্তিশালী করাই এর মূল লক্ষ্য।
ইউএইর কর্মকর্তাদের মতে, এই উদ্যোগ বিচারব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দেশটিকে স্মার্ট বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক নেতৃত্বের অবস্থানে আরও সুসংহত করবে।