অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করতে যৌথভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক, ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) এবং বিকাশ বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে।
এই ক্যাম্পেইনের আওতায় অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর সামাজিক এবং আর্থিক প্রভাব তুলে ধরে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন নির্মাণ করা হয়। একই সাথে অনলাইন জুয়া সম্পর্কিত আইনগত বিধান এবং শাস্তির বিষয়টিকেও এই বিজ্ঞাপনে বিশেষ গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করা হচ্ছে। জুয়া খেলার অপরাধে ২ বছর পর্যন্ত জেল এবং ১ কোটি টাকা পর্যন্ত বড় অংকের জরিমানা, বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার এর মতো বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে।
টেলিভিশন চ্যানেল, সংবাদপত্রসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন প্রচারিত হচ্ছে। পাশাপাশি জুয়ার ক্ষতিকারক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।
সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের এই যৌথ উদ্যোগ সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এই অপরাধ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও কঠিন বার্তা দেয় যে অপরাধীদের কোনো ছাড় না দিতে অংশীজন সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ রয়েছে।
বিকাশ এর চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল শেখ মো. মনিরুল ইসলাম (অব.) বলেন, আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিআইডি এর সাথে যৌথভাবে এই ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছি আমরা। আর্থিক খাতে নিরাপদ লেনদেনকে উৎসাহিত করতে সারাবছরই আমাদের এমন অসংখ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
সিআইডি এর বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, প্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে অনলাইন জুয়ায় আসক্তি দেখা যাচ্ছে। অনেকে ভাবেন অনলাইনে জুয়া খেলছেন এটা কেউ জানবে না বা তাকে খুঁজে বের করা যাবে না। তবে সবকিছুরই প্রমাণ থেকে যায়। আইনের কঠোর বিধানগুলো আবারও মনে করিয়ে দিতেই যৌথ ভাবে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নিজেদের নিরাপদ রাখতে সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।