রাকসু ভবনে হামলার ঘটনায় ৬ দফা দাবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ভবনে হামলার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাকসু। সংগঠনটির অভিযোগ, নারী শিক্ষার্থীকে হুমকির ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং পরবর্তীতে রাকসু ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শাস্তি ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতাসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাকসু ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৬ জুলাই সংস্কৃত বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থী একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুহসিনের বিরুদ্ধে প্রেমের প্রস্তাব ও হুমকির অভিযোগ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় অভিযুক্ত ছুরি দেখিয়ে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন এবং নিজের কাছে পিস্তল থাকার কথাও জানান। পরে ওইদিন রাতেই প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষকে ডাকা হয়।

রাকসুর অভিযোগ, প্রক্টর অফিসে আনাস নামে এক ব্যক্তি অভিযুক্তের অভিভাবক পরিচয়ে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেন এবং প্রক্টরের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে তাকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের মামলা করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করে রাকসু। একই সঙ্গে আনাসের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়।

রাকসুর পক্ষ থেকে বলা হয়, ২৭ জুলাই পুনরায় প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষকে ডাকা হলে মুহসিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। বিষয়টির সমাধান প্রক্রিয়া চলার সময় আনাস আবারও প্রক্টর অফিসে এসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করেন এবং প্রক্টরিয়াল বডি, রাকসুর জিএস, এজিএস, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রক্টরের উপস্থিতিতে আনাসের মোবাইল ফোন পর্যালোচনায় অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায় এবং তিনি নিজেও পূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও পরে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর না করে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করে রাকসু।

রাকসুর ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর আনাস, ছাত্রদল নেতা শাফিন ও তাদের সহযোগীরা রাকসু ভবনে হামলা চালান। এতে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার আহত হন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত হন।

সংবাদ সম্মেলনে রাকসু অভিযোগ করে, হামলার পর আনাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির রিডিং রুমে আশ্রয় নিলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের দাবিতে রাকসু, হল সংসদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সেখানে অবস্থান নেয়। তবে প্রশাসনের দীর্ঘ সময়ের নিষ্ক্রিয়তার কারণে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এ ঘটনায় ছয় দফা দাবি জানিয়ে রাকসু বলেছে, নারী শিক্ষার্থীকে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি রাকসু ভবনে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচার, প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তদন্ত, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অতীতে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ও ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “রাকসু ভবনে হামলার পর আমরা প্রক্টর অফিসে গিয়ে বারবার বলতে থাকি তাদের অ্যারেস্ট করার বিষয়ে। কিন্তু ২০-২৫ মিনিট পার হয়ে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রথমেই তাদের অ্যারেস্ট করা হলে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।”