উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। টানা দুই সপ্তাহ বিমান হামলার পর সম্প্রতি ইরানে নতুন হামলা স্থগিতের নির্দেশ দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে ‘ভালো আলোচনা’ হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে ইরানে আবারও হামলা শুরু হবে। গত সোমবার মিশিগানে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প ইরান সম্পর্কে বলেন, ‘আমাদের ভালো আলোচনা চলছে। আমার মনে হয়, কিছু একটা হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। যদি তা হয়, তাহলে ভালো। আর যদি না হয়, তাহলে আমরা আগে যা করছিলাম, সেটিতেই আবার ফিরে যাব।’
ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ‘ওদের ঘুষ দিয়ে কেনা যায় না। ওদের পরাজিত করতে হবে, আর আমরা ওদের পুরোপুরি পরাজিত করব। তবে শেষ পর্যন্ত কী হয়, সেটি দেখা যাক। এই মুহূর্তে খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।’ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে এবং ইরান কূটনীতির পথ ত্যাগ করেনি। তবে ইরান নিজেরাই আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে এ ধরনের খবরকে তিনি ‘মনগড়া’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের স্বভাবের সঙ্গে যায় না।’
এদিকে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুদ্ধ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে প্রকাশ্যে মতভেদের পর হোয়াইট হাউজে তাদের এই প্রথম মুখোমুখি বৈঠক হতে যাচ্ছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধই প্রধান আলোচ্য বিষয় হওয়ার কথা রয়েছে। তবে জেরুজালেমের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ইরানের রহস্যময় ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’-এর পারমাণবিক স্থাপনায় তেহরান নতুন করে কার্যক্রম জোরদার করছেএমন গোয়েন্দা তথ্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তুলে ধরতে পারেন নেতানিয়াহু। সূত্রটি আরও দাবি করেছে, ইরান শান্তি আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী বলে যে অবস্থান প্রকাশ করছে, বাস্তবে তা সঠিক নয়।
সূত্রটির ভাষ্যমতে, বৈঠকে নেতানিয়াহুর প্রতিনিধিদল ইরানের সাম্প্রতিক পারমাণবিক তৎপরতার প্রমাণ উপস্থাপন করবে। তেহরান বর্তমানে আন্তরিকভাবে আলোচনা করছে না এটি প্রমাণ করাই তাদের উদ্দেশ্য। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ২০২০ সালে নির্মাণকাজ শুরুর পর প্রথমবারের মতো ইরানের ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ স্থাপনাটিতে পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজ পৌঁছানোর প্রমাণ পেয়েছে ইসরায়েল। নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কাছে কোলাং পর্বতের ৩০০ ফুটেরও বেশি গভীরে অবস্থিত এই ঘাঁটিকে দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অংশ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এর আগে সেখানে পারমাণবিক তৎপরতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গত সপ্তাহেও ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘পিক্যাক্স মাউন্টেনে’ কোনো তৎপরতার তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নেই। তবে সম্প্রতি তিনি স্থাপনাটিতে হামলার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।