বর্ষায় ফ্লোর ম্যাটের ব্যবহার

বর্ষায় ঘরদুয়ার পরিষ্কারের পাশাপাশি জীবাণুমুক্ত রাখতে হয়। এই সময় সোফা, পর্দা, বিছানার চাদর, বাথরুম, ফ্লোর সব কিছু ঝকঝকে করে রাখুন। তবে বেশি পরিচ্ছন্ন রাখা যেটা দরকার, তা হলো ফ্লোর ম্যাট, কারণ ফ্লোর ম্যাট যদি নোংরা থাকে তাহলে সোফা, বিছানার চাদর, বাথরুম, ফ্লোর সব কিছুই নোংরা হয়ে যায়। ঘর পরিষ্কার রাখতেই নয়, ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতেও ভূমিকা রাখে এসব কেনার আগে প্রথমে ভাবতে হবে রুমের আয়তন অনুযায়ী ফ্লোর ম্যাট কিংবা কার্পেটের সাইজ, ডিজাইন, মেটেরিয়াল, রঙ নির্ধারণ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় ফ্লোর ম্যাট এবং কার্পেটের ধরন-ধারণ অনেকটা পাল্টে গেছে। পরিষ্কার সহজ এবং সহজে নষ্ট হয় না তাই দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে এসব সিনথেটিক পাপোশ বা ফ্লোর ম্যাট।  মেঝের ধরন অনুযায়ী ফ্লোরম্যাট বেছে নিতে হয়। কারণ টাইলসের মেঝে পাপোশের  পেছনে রবার লাগানো ম্যাট বিছাতে হয়। না হলে পা দেওয়া মাত্র স্লিপ করতে পারে। বাজারে দুই ধরনের ম্যাট পাওয়া যায়। যার মধ্যে একটি চার ফুট চওড়া জুট ম্যাট ১১০ থেকে ১৬০ টাকা গজ, অন্যটি হলো সিনথেটিক ম্যাট, যা ৮ ফুট চওড়া। এ ধরনের ম্যাটের দাম পড়বে ২৫ টাকা স্কয়ার ফুট। তবে বর্ষায় সিনথেটিক ম্যাটই আর্দশ। ফ্লোর অনুষঙ্গ হিসেবে কার্পেট ব্যবহার করা যায়। বাজারে সিনথেটিক, জুট এবং তন্তুর তৈরি কার্পেট পাওয়া যায়, দাম ৬০ টাকা স্কয়ার ফুট থেকে শুরু। ফ্লোরম্যাট কেনার পড়ে সেটার জন্য প্রয়োজন হয় বাড়তি কিছু যতেœর। নাহলে কিছুদিনের মধ্যেই পুরনো হয়ে যায়। গুলশান-১ এর ডিসিসি মার্কেটের রাইদা এন্টারপ্রাইজের বিক্রয় প্রতিনিধি মনসুর আলী জানালেন, চায়নিজ পাপোশগুলোরই চাহিদা বেশি। নানা রকমের এই পাপোশগুলোর মধ্যে বুটিক, জো, ফ্লোরাল, টাফড, গ্রাস ডোরমেট, প্রিন্টেড পাপোশগুলোই বেশি বিক্রি হয়। বিদেশি পাপোশের বেশিরভাগ হলো পলিস্টার, ফ্লানেল, ক্রিস্টাল, ন্যাচারাল রাবার, লেটেক্স, কেমিক্যাল ফাইবার দিয়ে তৈরি। দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায় তাই চাহিদাও বেশি। বৃষ্টির সময় এইসব পাপোশ ব্যবহার করাই শ্রেয়। কোনো কোনো পাপোশের ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৬ মাসের ওয়ারেন্টিও আছে। এছাড়া সবুজ ঘাসের মতো মস পাপোশ বৃষ্টির জন্য আদর্শ। মস ম্যাট যেমন সত্যিকারের ঘাস বা মস দিয়ে তৈরি, ব্যবহার করা হচ্ছে কৃত্রিম তন্তু। পানি কাদা লাগলে সহজেই ধুয়ে ফেলতে পারবেন। কাঠের তৈরি ম্যাটে আবার আসছে পুরনো দিনের অনুভব। সিঁড়িতে ওঠার মুখে স্বচ্ছন্দে রাখতে পারেন উডেন ম্যাট।

দরদাম : পাপোশের দাম মূলত নির্ভর করে পাপোশটা কী দিয়ে তৈরি আর আকারের ওপর। প্লাস্টিক ও রাবারের বুটিদার পাপোশের দাম ৩০০ থেকে ১০০০ টাকা, কৃত্রিম তন্তুর পাপোশের দাম ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা, নেটের পাপোশ ২৫০ থেকে ৮০০ টাকা, নিট কাপড়ের পাপোশ ৫০ থেকে ১২০ টাকা, পাটের পাপোশ পাওয়া যায় ৫০ থেকে ১৫০ টাকায়। কম্বল আর কার্পেট পাপোশের চারটি আকার রয়েছে। দাম ২০০ থেকে ৫০০০ টাকা। এর মধ্যে কম্বলের পাপোশ পাওয়া যায় উলের ঝাড়সহ। ইরানের বিভিন্ন আকারের নাইলনের পাপোশের দাম ৬০০ থেকে ৪৫০০, সুতার  তৈরি পাপোশ ২০০ থেকে ৩৫০০, চায়নার তৈরি রাবারের পাপোশ ২৫০ থেকে ৯০০ টাকা।

কোথায় পাবেন : সুবাস্তু মার্কেট, গুলশান ডিসিসি মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, আনারকলি, সুবাস্তু বায়তুল মোকাররম, নিউ মার্কেট, গাউসিয়া, রাজধানী সুপার মার্কেট, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন মার্কেট এবং ফুটপাতের দোকানেও পাওয়া যায়। এছাড়া অনলাইনে নানা ধরনের ই-মার্কেটিং সাইটেও পাওয়া যায়।  

ফ্লোর ম্যাটের যত্নআত্তি

ফ্লোর ম্যাটে পরিষ্কার করার জন্য ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করুন। ঘরে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার রাখুন। প্রতি দুদিন পর পর কার্পেট পরিষ্কার করে নিন ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে। তাহলে ফ্লোর ম্যাট থাকবে ধুলাবালিমুক্ত এবং পরিষ্কার। পানি, চা, কোক বা ঝোলযুক্ত তরকারি ফ্লোর ম্যাটের আশপাশে আনবেন না। সিনথেটিক ফ্লোর ম্যাট মাঝে মাঝেই ধুয়ে ফেলুন। ফ্লোর ম্যাটের ওপর চুল, বেড়ালের লোম এবং আরও নানান রকম ময়লা আটকে থাকে যেগুলো ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করা যায় না। এই ধরনের ময়লাগুলো পরিষ্কার করে ফেলার জন্য সপ্তাহে অন্তত একদিন কার্পেট পরিষ্কারের ব্রাশ দিয়ে ফ্লোর ম্যাটটি পরিষ্কার করে ফেলুন। বৃষ্টি হলে কিংবা বর্ষাকালে মেঝে থেকে নোনা ওঠে। ফলে ম্যাটের ক্ষতি হয়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কার্পেটের নিচে কার্পেট প্যাড ব্যবহার করুন। এতে ফ্লোর ম্যাট ভালো থাকবে বহুদিন।