বাইরে থেকে ফিরে যে যত ভালোভাবে ত্বক পরিষ্কার করবে, তার ত্বক তত ভালো থাকবে। ভালোভাবে ত্বক পরিষ্কার করলে ত্বক হবে সজীব সতেজ এবং ব্রণমুক্ত। প্রতিদিন ত্বক ঠিকঠাক পরিষ্কার করতে অন্তত ১০টি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। কী কী পণ্য দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করবেন তার থেকে জরুরি আপনার ত্বক কোন ধরনের। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ত্বক পরিষ্কারের পণ্য বেছে নিতে হবে
অয়েলবেইজড ক্লিনজার
অয়েলবেইজড ক্লিনজার দিয়ে আপনি ত্বক পরিষ্কারের প্রথম ধাপ শুরু করতে পারেন। এই ক্লিনজার ত্বক থেকে মেকআপ, সানস্ক্রিন, অতিরিক্ত সিবাম, ধুলোময়লা এবং অন্যান্য তেল দূর করে দেবে। ত্বক হাইড্রেড রাখতে কাজ করবে। এর ফলে ত্বক শুকিয়ে জ্বালা করবে না। ক্লিনজার দিয়ে ত্বক আলতোভাবে মাসাজ করে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
ওয়াটারবেইজড ক্লিনজার
এরপর ওয়াটারবেইজড ক্লিনজার দিয়ে আবার ত্বক পরিষ্কার করে নিতে হবে। এই ক্লিনজার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করার ফলে ত্বকের অবশিষ্ট ময়লা এবং ঘাম ও মেকআপের অবশিষ্ট অংশ চলে যাবে। ত্বক হবে কোমল।
স্ক্রাবিং
ত্বকের মরা চামড়া দূর করতে স্ক্রাবিং জরুরি। ত্বক মসৃণ, নরম এবং উজ্জ্বল করতে স্ক্রাব করতে পারেন। ত্বকের ধরন অনুযায়ী স্ক্রাব ব্যবহার করতে হবে। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার স্ক্রাব করতে পারেন। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য, সপ্তাহে একবার স্ক্রাব করাই ভালো। আবার অনেক সময় নিয়ে স্ক্রাবিং না করার বিষয়ে সতর্ক থাকুন। এর ফলে ত্বকে জ্বালাপোড়া এবং ত্বক ফুলে যেতে পারে। স্ক্রাবিং করুন সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৫ মিনিট।
টোনার
ত্বক পরিষ্কার করার পর ত্বকে হাইড্রেট করা জরুরি। টোনার কেবল ত্বক হাইড্রেট নয়, ত্বকের পিএইচ লেভেলও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে। কটন প্যাডে টোনার নিয়ে মুখে এবং ঘাড়ে আলতো করে চেপে চেপে দিয়ে দিন। এরপর শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
এসেন্স
টোনারের মতো করে এসেন্সও ত্বক হাইড্রেট করে। ত্বকে খুব ভালো করে হাইড্রেশনের কাজ করে। এর মধ্যে সেরামের মতো ভালো উপাদান রয়েছে, যা ত্বককে প্রাণবন্ত করার পাশাপাশি কোষের টার্নওভারে সহায়তা করে।
সিরাম
হাইপারপিগমেন্টেশন, রিঙ্কেলস, ব্রণও ত্বকের নিস্তেজ ভাব কাটাতে সিরাম ব্যবহার করতে পারেন। জেনে রাখবেন ত্বকের যতেœ সিরাম খুব গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকের ধরন অনুযায়ী সিরাম বেছে নিন যা ত্বককে জাদুকরী পরিবর্তন এনে দেবে।
শিট মাস্ক
ত্বক চর্চায় জনপ্রিয় পণ্য শিট মাস্ক। শিট মাস্ক ত্বক গভীরভাবে হাইড্রেশন করে এবং ত্বকের পুষ্টিকর উপাদান পৌঁছে দেয়। যখন ত্বকে অতিরিক্ত শুষ্কতা অনুভব করবেন তখন সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার শিট মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। শিট মাস্ক ত্বকে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে তারপরে আলতো তুলে ফেলতে হবে। শিট তোলার সময় সতর্ক থাকুন কারণ শিট মুখোশটি খুব শুষ্ক হয়ে উঠলে এটি ত্বক থেকে উল্টো আর্দ্রতা শুষে নিতে শুরু করবে।
আই ক্রিম
চোখের চারপাশের ত্বক খুব পাতলা থাকার কারণে শুষ্কতা খুব দ্রুতই তৈরি হয়। এর ফলে চোখের চারপাশে রিঙ্কেলস পড়ে। তাই চোখের চারপাশে সূক্ষ্ম রেখা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে চোখের চারপাশে আইক্রিম আলতো করে দিয়ে রিং আঙুলটি দিয়ে হালকা করে মাসাজ করে নিন। মনে রাখবেন চোখের ওয়াটার লাইনের নিচের অংশ সবসময় সতেজ রাখা জরুরি।
ময়েশ্চারাইজার
হাইড্রেট করা ছাড়াও ময়েশ্চারাইজার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন রকেমের ময়েশ্চারাইজার রয়েছে। জেনে রাখবেন ময়েশ্চারাইজার ক্রিম, লোশন এবং জেল সবই হয়। ত্বকের ধরন অনুযায়ী নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।
সানস্ক্রিন ও নাইট ক্রিম
ত্বকের যত্নের শেষ ধাপটি হলো নাইট ক্রিম। সকালে বা রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে রুটিন অনুয়ায়ী সানস্ক্রিন বা নাইট ক্রিম ব্যবহার করুন। দিনের জন্য এসপিএফ সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। যা সূর্যের ক্ষতিকারক ইউভি রশ্মি এবং দূষণ থেকে ত্বককে রক্ষা করে ত্বকের সানবার্ন এবং বলিরেখা দূর করবে। আর রাতের সময়ের জন্য অর্থাৎ আপনি যখন ঘুমিয়ে থাকবেন তখন ত্বকের মেরামত এবং সতেজতা ধরে রাখতে নাইট ক্রিম বা সিøপিং মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। যার ফলে ত্বক থাকবে সব সময় সতেজ ও প্রাণবন্ত।