ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী দাবি করেছে, লোহিত সাগরে সৌদি আরবের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তারা। সৌদি জাহাজের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করার এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর এ হামলার দাবি করা হলো।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, 'সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার এনসিসি গাজাল আমাদের আরোপিত সামুদ্রিক চলাচল নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করায় সেটিকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।'
তিনি দাবি করেন, অভিযানে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং হামলার মুখে ট্যাংকারটি পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলের সময় একটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে জাহাজের সব নাবিক নিরাপদ আছেন এবং পরিবেশের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর থেকে হুথিরা সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
গত ২০ জুলাই হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। তাদের অভিযোগ, সৌদি নেতৃত্ব প্রায় ১২ বছর ধরে ইয়েমেনের ওপর 'অন্যায় ও দমনমূলক অবরোধ' আরোপ করেছে, দেশটির সম্পদ লুট করেছে এবং সর্বাত্মক অবরোধ বজায় রেখেছে।
হুথিরা তখন বলেছিল, 'অবরোধের জবাবে অবরোধ আরোপ করা ইয়েমেনের জনগণের অধিকার।'
এর আগে গত সপ্তাহেও লোহিত সাগরে চলাচলরত সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছিল হুথিরা। ইয়াহইয়া সারি জানান, 'এনসেলিয়া ও লায়লা নামের দুটি সৌদি ট্যাংকারকে অবরোধ লঙ্ঘনের কারণে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।'
সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায়, এনসেলিয়া ট্যাংকারটি হামলার শিকার হলেও জাহাজের সব নাবিক নিরাপদ ছিলেন।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই পথ দিয়েই সুয়েজ খালের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে তেল পরিবহন হয়।
উত্তরে ইয়েমেন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত এই প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ মাত্র ২৯ কিলোমিটার (১৮ মাইল)। ফলে জাহাজ চলাচল দুটি সংকীর্ণ চ্যানেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
২০২৪ সালে এই প্রণালি দিয়ে প্রায় ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেল পরিবহন হয়েছে, যা বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রায় ৫ শতাংশ।