সিঙ্গাপুর-দুবাইয়ের সঙ্গে লড়বে চট্টগ্রাম!

দেশের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের সফল রাজনীতিবিদদের অন্যতম ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। চট্টগ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তাঁর। যুক্তরাজ্যের ‘দ্য অনারেবল সোসাইটি অব লিঙ্কনস ইন’ থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে পেশাজীবন শুরু করেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) পদে দায়িত্বে আছেন তিনি। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ আংশিক) আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রাার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে রাজনীতি, নেতৃত্ব, চট্টগ্রামের উন্নয়ন এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর ভাবনা ও পরিকল্পনা নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন মীর হেলাল।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেশ রূপান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার শামসুল ইসলাম

দেশ রূপান্তর :  রাজনীতিবিদ হওয়ার স্বপ্ন কখন দেখেছিলেন? কীভাবে এই পর্যায়ে এলেন?

ব্যারিস্টার মীর হেলাল : রাজনীতি আমার কাছে কোনো আকষ্মিক ঘটনা বা পেশা নয়। এটি আমার পারিবারিক উত্তরাধিকার এবং শৈশব থেকে গড়ে ওঠা এক মনস্তাত্ত্বিক অঙ্গীকার। আমি চট্টগ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। আমার পিতা অ্যাডভোকেট মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন (সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এবং সাবেক মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন) এবং মাতা প্রয়াত ডালিয়া নাজনীন নাছিরের আদর্শের মধ্যেই আমার বেড়ে ওঠা। পিতার নীতিগত রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং দেশের জন্য তাঁর ত্যাগ আমাকে খুব ছোটবেলা থেকে আলোড়িত করেছিল। অন্যদিকে, মায়ের মানবিক মূল্যবোধ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি ভালোবাসা আমার ভেতর সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্ম দেয়। যুক্তরাজ্যের ‘দ্য অনারেবল সোসাইটি অব লিঙ্কনস ইন’ থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করে সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশা শুরু করলেও, মন পড়ে থাকতো জনগণের জন্য কিছু করার। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বৈপ্লবিক জাতীয়তাবাদী আদর্শ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রামকে ধারণ করে আমি ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির পরিম-লে যুক্ত হই। পরবর্তীতে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও তরুণ প্রজন্মের ভালোবাসায় এবং আমাদের জননেতা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় জাতীয় রাজনীতিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাই। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও আংশিক বায়েজিদ) আসনের সম্মানিত জনগণ বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করে দীর্ঘ ১৮ বছর পর আসনটি পুনরুদ্ধার করার সুযোগ দেন। এভাবেই জনগণের অকুণ্ঠ ভালোবাসায় আজকের এই পর্যায়ে আসা।

দেশ রূপান্তর : ছাত্রজীবনে আপনার স্বপ্ন কী ছিল এবং তা কতটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন?

ব্যারিস্টার মীর হেলাল : ছাত্রজীবনে আমার প্রধান স্বপ্ন ছিল দুটি। প্রথমত, আন্তর্জাতিক মানের আইনি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের বিচারপ্রার্থী মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা। দ্বিতীয়ত, একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের লড়াইয়ে নিজেকে উৎসর্গ করা। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি যুক্তরাজ্যের লিঙ্কনস ইন থেকে ব্যারিস্টার হতে পেরেছি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে আইনের শাসন ও সাংবিধানিক অধিকারের পক্ষে জোরালো সওয়াল করার সুযোগ পেয়েছি। আর রাজনৈতিক স্বপ্নের কথা যদি বলি, বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে যে লড়াই আমরা করেছি, ২০২৬ সালের গণম্যান্ডেটের মাধ্যমে দেশে আজ বহুদলীয় গণতন্ত্র ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়ে দেশ ও জনগণের সেবা করার যে সুযোগ পেয়েছি, তা আমার ছাত্রজীবনের স্বপ্নেরই একটি বৃহৎ বাস্তবায়ন। তবে স্বপ্ন দেখার শেষ নেই; এখন স্বপ্ন  দেখি একটি বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার।

দেশ রূপান্তর : কর্মজীবন ও রাজনীতিতে আসার পেছনে প্রধান অনুপ্রেরণা কী ছিল?

ব্যারিস্টার মীর হেলাল : আমার কর্মজীবন ও রাজনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এবং অনুপ্রেরণা হলেন মূলত তিনজন। প্রথমত, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তম। তাঁর বীরত্ব, দেশপ্রেম, ‘১৯ দফা কর্মসূচি’ এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার দর্শন আমাকে সবচেয়ে বেশি উদ্বুদ্ধ করে। এর পর প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম, নেতৃত্বগুণ এবং আপসহীন রাজনীতির বৈশিষ্ট্য আমাকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। সর্বোপরি ছোটবেলা থেকে আমি তারেক রহমানকে যেভাবে তৃণমূলের সঙ্গে মিশতে দেখেছি, মানুষের সেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করতে দেখেছি তা থেকে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা আমাকে ছোটবেলা থেকে মুগ্ধ করেছে। সেখান থেকেই বৃহত্তর পরিম-লে জনসেবা করার আকাক্সক্ষা আমার মাঝে জন্ম নেয় এবং আস্তে আস্তে আমি তৃণমূল পর্যায়ে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ি।

দেশ রূপান্তর : আপনার আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি?

ব্যারিস্টার মীর হেলাল : আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে মহান আল্লাহর পর সবচেয়ে বড় অবদান আমার পিতা-মাতা, আমার রাজনৈতিক অভিভাবক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এবং সর্বোপরি চট্টগ্রাম-৫ আসনের তৃণমূলের সাধারণ মানুষ ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের। আমার পিতা আমাকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নীতিতে অটল থাকতে শিখিয়েছেন। আর আজ জাতীয় পর্যায়ে দেশসেবা করার যে সুযোগ আমি পেয়েছি, তা সম্পূর্ণ সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব, আমার ওপর তাঁর অটুট আস্থা এবং যোগ্য মূল্যায়নের কারণে।

দেশ রূপান্তর : আপনার সফলতার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনটি ছিল এবং কঠিন সময়গুলো কীভাবে মোকাবিলা করেছেন?

ব্যারিস্টার মীর হেলাল: বিগত ১৮ বছর দেশে যে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা কায়েম ছিল, তার বিরুদ্ধে কথা বলা এবং রাজনীতি করাটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মিথ্যা মামলা, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং পদে পদে প্রতিবন্ধকতা পার হতে হয়েছে। আইন পেশা এবং রাজনীতি দুটি ক্ষেত্রকেই সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। কঠিন সময়গুলো আমি মোকাবিলা করেছি ধৈর্য, সততা এবং শহীদ জিয়ার আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে। আমি বিশ্বাস করি, সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকলে সাময়িক অন্ধকার আসলেও চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (তজঋ)-এর লিগ্যাল রিসার্চ সেলের কনভেনর এবং বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য হিসেবে আমি ও আমার দল আইনি ও বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে স্বৈরাচারের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রেখেছিলাম। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাহস এবং সাধারণ মানুষের সুপ্ত কামনাই আমাদের সেই কঠিন দিনগুলো পাড়ি দেওয়ার শক্তি জুগিয়েছে।

দেশ রূপান্তর : আপনার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অর্জন কোনটি?

ব্যারিস্টার মীর হেলাল : একজন আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ হিসেবে অনেক চড়াই-উতরাই পার হতে হয়েছে। তবে আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় এবং আবেগঘন অর্জন হলো ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও আংশিক বায়েজিদ) আসনের অবরুদ্ধ ও অধিকারবঞ্চিত মানুষ দীর্ঘ ১৮ বছর পর ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন জনসমর্থন (হাইয়েস্ট ম্যান্ডেট) নিয়ে আমি জয়লাভ করি। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর ওই অঞ্চলের মানুষের মুখে বিজয়ের হাসি এবং স্বস্তির নিঃশ্বাস দেখতে পাওয়াটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ও স্মরণীয় অর্জন। এরপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক আমাকে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এই দু’টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব অর্পণ করাও আমার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি ও গৌরবময় অর্জন বলে আমি মনে করি।

দেশ রূপান্তর : একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আপনার প্রধান অগ্রাধিকার কী?

ব্যারিস্টার মীর হেলাল : নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার প্রধান অগ্রাধিকার হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি সেবাকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব করা। বিশেষ করে ভূমি মন্ত্রণালয়ে আধুনিকায়ন, শতভাগ ডিজিটাল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যাতে কোনো নাগরিককে এক ইঞ্চি জমির জন্য হয়রানির শিকার হতে না হয়। পাশাপাশি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাহাড়ের নৃগোষ্ঠী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন (ইকো-ট্যুরিজম) ব্যবস্থার প্রসার ঘটানো আমার শীর্ষ অগ্রাধিকার। হাটহাজারী ও বায়েজিদ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং সব ধরনের চাঁদাবাজি ও সামাজিক অন্যায়ের অবসান ঘটানোই আমার প্রথম ও প্রধান কাজ।

দেশ রূপান্তর : নেতৃত্বের ক্ষেত্রে আপনি কোন নীতি সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করেন?

ব্যারিস্টার মীর হেলাল : নেতৃত্বের ক্ষেত্রে আমি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক সুশাসন’ (Inclusive Governance), শতভাগ ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’ এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই নীতিত্রয়ী সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করি। শহীদ জিয়া আমাদের শিখিয়েছেন ড্রয়িংরুম পলিটিক্স বা শুধু মঞ্চের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে। আমি সেই মাঠপর্যায়ের সংযোগ এবং সততার নীতিতে বিশ্বাসী। কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমার অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।

দেশ রূপান্তর : তরুণ প্রজন্মকে নেতৃত্বে এগিয়ে আসার জন্য আপনার পরামর্শ কী?

ব্যারিস্টার মীর হেলাল : তরুণদের প্রতি আমার স্পষ্ট বার্তা, তোমরা কেবল ভবিষ্যতের নেতা নও, তোমরাই বর্তমান বাংলাদেশের প্রধান চালিকাশক্তি। তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতি ও সামাজিক নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে হবে গভীর দেশপ্রেম, সততা এবং নৈতিক মূল্যবোধকে পাথেয় করে। রাজনীতি মানে ক্ষমতা বা পদ নয়; রাজনীতি মানে মানুষের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার সুমহান সুযোগ। তোমরা নিজেদের আধুনিক শিক্ষায়, প্রযুক্তিতে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় সমৃদ্ধ করো। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হও এবং নিজেদের মেধা ও শক্তিকে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারে নিয়োজিত করো। মনে রাখবে, তোমরাই পারবে একটি বৈষম্যহীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।

দেশ রূপান্তর :  দেশের অর্থনৈতিক রাজধানী চট্টগ্রাম- এ পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করতে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন?

ব্যারিস্টার মীর হেলাল : চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থেই দেশের অর্থনৈতিক রাজধানী হিসেবে কার্যকর করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন ওয়ান-স্টপ সার্ভিস নিশ্চিত করা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা। চট্টগ্রাম বন্দরকে সম্পূর্ণ আধুনিকায়ন এবং এর সক্ষমতা দ্বিগুণ করতে হবে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক), চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা এবং বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সব সেবা সংস্থার মধ্যে একটি সুদৃঢ় ও সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ট্যাক্স হলিডে এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।

দেশ রূপান্তর : চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা কোথায় বলে আপনি মনে করেন?

ব্যারিস্টার মীর হেলাল : চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা এর ভৌগোলিক অবস্থান, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং এর অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা সমাজ। চট্টগ্রাম হলো বাংলাদেশের অর্থনীতির ফুসফুস ও প্রবেশদ্বার। আমাদের বে অফ বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট, ব্লু-ইকোনমি বা সামুদ্রিক অর্থনীতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সম্পদ ও ইকো-ট্যুরিজমের যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে শুধু চট্টগ্রাম নয়, সমগ্র বাংলাদেশের অর্থনীতি আমূল বদলে যাবে।

দেশ রূপান্তর :  আগামী ১০ বছরে চট্টগ্রামকে কোথায় দেখতে চান?

ব্যারিস্টার মীর হেলাল : আগামী ১০ বছরে আমি চট্টগ্রামকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও লজিস্টিক হাব হিসেবে দেখতে চাই। এমন এক চট্টগ্রাম, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকবে, শিল্পকারখানাগুলো পরিবেশবান্ধব ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হবে এবং যা সিঙ্গাপুর বা দুবাইয়ের মতো বৈশ্বিক বাণিজ্যিক নগরগুলোর সাথে প্রতিযোগিতা করার যোগ্যতা অর্জন করবে। আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিকল্পিত, আধুনিক, সবুজ, যানজট ও জলাবদ্ধতামুক্ত এবং শতভাগ নিরাপদ বৈশ্বিক মানসম্পন্ন উন্নত চট্টগ্রাম রেখে যেতে চাই। যেখানে পাহাড় ও প্রকতির ভারসাম্য রক্ষা করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে, যেখানে মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন হবে এবং প্রতিটি নাগরিক উন্নত নাগরিক সুবিধা নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।

দেশ রূপান্তর : যানজট, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণের মতো সমস্যাগুলোর সমাধানে আপনার ভাবনা কী?

ব্যারিস্টার মীর হেলাল : যানজট, জলাবদ্ধতা এবং পরিবেশ দূষণ চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের ক্ষত। এগুলো নিরসনে আমরা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিচ্ছি। জলাবদ্ধতা দূরীকরণে শহীদ জিয়ার আমলের ‘খাল খনন কর্মসূচি’র মতো বৈপ্লবিক ধারণার আধুনিক প্রয়োগ ঘটিয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার, প্রাক-বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, আউটার রিং রোডের সঠিক ব্যবহার এবং পরিকল্পিত পার্কিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। আর পরিবেশ দূষণ রোধে পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ বন্ধ করা, কলকারখানার বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা এবং কর্ণফুলী নদী রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে।