যুক্তরাষ্ট্রের নতুন গোয়েন্দা প্রধান জে ক্লেটন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত জে ক্লেটনকে দেশটির নতুন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক (ডিএনআই) হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে সিনেট। গতকাল বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ৫১-৪৭ ভোটে তার নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। তিনি ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে থাকা বিল পোল্টের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। ক্লেটনের নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন জে সব দিক দিয়েই অসাধারণ, এবং পরিচালক হিসেবে তিনি চমৎকার কাজ করবেন। এর মধ্যে দিয়ে তুলসি গ্যাবার্ডের পদত্যাগের পর এই পদে স্থায়ীভাবে নিয়োগ পেলেন জে ক্লেটন। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন গোয়েন্দা প্রধান ক্লেটন নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের সাবেক অ্যাটর্নি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের মামলাসহ বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল মামলার তদারকি করেন তিনি।

রিপাবলিকানরা জুন মাসেই ক্লেটনের অনুমোদন সম্পন্ন করতে চেয়েছিলেন। পোল্টেকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান- উভয় শিবিরের আইনপ্রণেতারাই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত পোল্টের আবাসন নিয়ন্ত্রক পদের ক্ষমতা ব্যবহার করে- প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিচারের জন্য সুপারিশ করেছিলেন এবং গোয়েন্দা বিভাগে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই শুরু করেন। পোল্টেকে নিয়ে সমালোচনা তৈরি হওয়ার পরই ট্রাম্প তার জায়গায় সাবেক সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রক ও ফেডারেল প্রসিকিউটর ক্লেটনের নাম প্রস্তাব করেন। ক্লেটনের ভোটাভুটির ঠিক আগেও এক্সে পোল্টে জানান, তারা গোয়েন্দা বিভাগে প্রায় ৩০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পঞ্চম ও প্রায় চূড়ান্ত ধাপ বাস্তবায়ন করছেন।

সিনেটের ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস-চেয়ার ডেমোক্র্যাট নেতা মার্ক ওয়ার্নার জানান, রাজনৈতিক চাপের মুখে ক্লেটন কতটা শক্ত অবস্থান নিতে পারবেন তা নিয়ে তার সংশয় রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক অস্থিরতা কাটিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন একটি স্থিতিশীল নেতৃত্ব পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ক্লেটনের এই নিয়োগ ‘ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিল্যান্স অ্যাক্ট’ বা ফিসা আইনের ৭০২ ধারা দীর্ঘমেয়াদে নবায়নে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই আইনের মাধ্যমে পরোয়ানা ছাড়াই বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের যোগাযোগ নজরদারি করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।