যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। গতকাল বুধবার কিয়েভ জানিয়েছে, রাতের আঁধারে চালানো এই ড্রোন হামলায় রাশিয়ার রিয়াজান তেল শোধনাগার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। পাশাপাশি রাশিয়া অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপেও ইউক্রেনের ড্রোন আঘাত হেনেছে। এর মাধ্যমে মস্করের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইউক্রেন। দেশটির সামরিক সদর দপ্তরের দাবি, হামলার পর রাশিয়ার রিয়াজান তেল শোধনাগারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এটি রাশিয়ারর অন্যতম বৃহৎ শোধনাগার, যার বার্ষিক তেল প্রক্রিয়াজাতকরণের সক্ষমতা প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টন। এই স্থাপনা থেকে পেট্রল, ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন করা হয়।
এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী পের্ম ও রিয়াজানের তেল শোধনাগার, রিয়াজানের একটি লজিস্টিকস কেন্দ্র, রোস্তভ অঞ্চলের একটি রপ্তানি টার্মিনাল ও সামরিক কারখানা এবং ক্রিমিয়ার একটি নৌঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তারাও এসব হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রিয়াজান তেল শোধনাগারটি মস্কোর দক্ষিণে এবং ইউক্রেন নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অঞ্চলটির গভর্নর পাভেল মালকভ জানিয়েছেন, ড্রোন হামলার ঘটনায় ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার দাবি, ড্রোন প্রতিহত করার সময় কয়েকটি শিল্প স্থাপনায় আগুন লাগে। তবে তিনি সরাসরি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রুশ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেন। এরই অংশ হিসেবে এই নতুন হামলা চালানো হয়েছে। রাশিয়ার গভীর অভ্যন্তরে থাকা জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে হামলা চালাতে ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে দূরপাল্লার ড্রোন ও নিজস্ব প্রযুক্তির অস্ত্রের ওপর বেশি নির্ভর করছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মতো প্রতিরোধী অস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিলেও দেশটির দূরপাল্লার হামলায় সক্ষম ড্রোন উৎপাদন রাশিয়াকে ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে দেশটির ১১টি ভিন্ন ভিন্ন সময় অঞ্চলে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের অন্তত সাতটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে তাদের মোট সংরক্ষণ সক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ নষ্ট হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষিতে গুদাম খালি করে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এই হামলার আগে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি- যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক, আর্থিক ও কূটনৈতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা করে। বৈঠকের পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধের প্রতিটি দিন রাশিয়ার জন্য ব্যয়বহুল হওয়া আরও প্রয়োজন। আগ্রাসনকারীর ওপর চাপ বাড়ানো এবং যুদ্ধ শেষের পথ আরও দ্রুত করার জন্য এই কৌশল অব্যাহত রাখা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে ইউক্রেনের খেরসন শহরে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় এক ব্যক্তি নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষ। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের ড্রোন ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের পূর্বদিকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী দুটি জাহাজে আঘাত করেছে।
