'ইতালিয়ানরা যেনো আবারও প্রেমে পড়ে,' লক্ষ্য মানচিনির

টানা তিনবার বিশ্বকাপের টিকিট না পাওয়ার গভীর ক্ষত নিয়ে ইতালির ডাগআউটে দ্বিতীয়বারের মতো পা রেখেছেন রবার্তো মানচিনি। দায়িত্ব ফিরে পেয়েই তিনি শোনালেন বড় স্বপ্নের কথা। চার বছরের চুক্তিতে শুধু ইতালিকে পুনরুজ্জীবিত করা নয়, একাধিক বড় শিরোপা জেতার লক্ষ্যটাও স্থির করেছেন।

পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মানচিনি বলেন, ‘আমরা চার বছরের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। আমি আশা করি একটি বড় ট্রফি, এমনকি দুটি ট্রফিও জিততে পারব এবং সম্ভব হলে এর পরেও দায়িত্বে টিকে থাকতে পারব।’

এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইতালিকে কোচিং করিয়ে রেকর্ড গড়া এক অধ্যায় উপহার দিয়েছিলেন মানচিনি। ইউরো ২০২০ শিরোপা জয় ছাড়াও সেই সময়ে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছিল তার দল, যে রেকর্ডটি চলতি বছর ভেঙেছে স্পেন। তবে ২০২৩ সালে হুট করেই সৌদি আরবের কোচের দায়িত্বে যোগ দিতে ইতালি ছাড়ায় সমর্থকদের মনে তৈরি হয়েছিল ক্ষোভ ও অভিমান। দীর্ঘ বিরতির পর সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে সেই ক্ষোভ দূর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ৬১ বছর বয়সী এই কোচ।

সমর্থকদের মন জয় করার প্রসঙ্গে মানচিনি বলেন, ‘আমি এমন সুন্দর ও আকর্ষণীয় ফুটবল খেলার পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করব, যাতে সমর্থকরা দলের প্রেমে পড়ে এবং অতীতে যা ঘটেছে তা হয়তো আমাকে ক্ষমা করে দেয়। আমি ঠিক এটাই আশা করি।’

কোচ হিসেবে মানচিনির এই দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয়েছে বেশ নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে। আন্দ্রে পিরলোকে কোচ করার পরিকল্পনা নিয়েছিল ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি)। তবে একটি রুশ বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিরলোর সম্পর্কের জটিলতা এবং এর জেরে পাওলো মালদিনি ও লিওনার্দোর পদত্যাগের কারণে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। শেষ পর্যন্ত মানচিনির ওপরই আস্থা রাখেন এফআইজিসি সভাপতি জিভানি মালাগো। একই সঙ্গে কৌশলগত অপারেশন ও এলিট ফুটবল উন্নয়নের দেখভালের জন্য ৭৪ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ক্লৌদিও রানিয়েরিকেও টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ইতালীয় ফুটবলের বর্তমান সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় হিসেবে তরুণদের সুযোগ দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন মানচিনি। দেশের ক্লাবগুলোকে তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর আরও বেশি বিনিয়োগ ও নিয়মিত খেলার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান, ইতালির বর্তমান স্কোয়াডে প্রতিযোগিতাপূর্ণ দল গড়ার মতো যথেষ্ট প্রতিভা রয়েছে।

নিজের মূল লক্ষ্য স্পষ্ট করে মানচিনি আরও বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় চাওয়ার দুটি বিষয় রয়েছে। প্রথমত, ইতালিয়ান সমর্থকদের আবারও জাতীয় দলের প্রেমে পড়তে বাধ্য করা। দ্বিতীয়ত, আমার ১২ বছর বয়সী নাতির মতো যে শিশুরা কখনো ইতালিকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখেনি, তাদের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি দেখার সুযোগ করে দেওয়া।’ 

আসন্ন সেপ্টেম্বরেই পরীক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে মানচিনিকে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রোমে বেলজিয়ামের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তার নতুন মিশনের লড়াই। এরপর ৫ অক্টোবর বোলোগনায় তুরস্কের মুখোমুখি হবে ইতালি। এই কঠিন গ্রুপ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে মানচিনি জানান, ম্যাচগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর মাধ্যমেই দলের শক্তি ও দুর্বলতাগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে।