ফুটবলকে বিদায় জানালেন ইতালির ইউরো জয়ী তারকা 

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৪ এএম

১৭ বছরের পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন ইতালি ও লাৎসিওর সাবেক তারকা স্ট্রাইকার চিরো ইমোবিলে। পরিবারকে সময় দেওয়ার জন্য এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। ইমোবিলের অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরাসি ক্লাব প্যারিস এফসি।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে ফরাসি ক্লাবটি জানিয়েছে, ‘১৭ বছর পেশাদার ফুটবল খেলার পর চিরো ইমোবিলে তার বেশিরভাগ সময় প্রিয়জনদের সাথে কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।’ গত ফেব্রুয়ারিতে বোলোনিয়া থেকে প্যারিস এফসিতে যোগ দিয়ে লিগ ওয়ানে ১২ ম্যাচ খেলে ২টি গোল করেন তিনি।

ক্যারিয়ারজুড়ে ক্লাব ও জাতীয় দলের জার্সিতে ইমোবিলের অর্জন বেশ সমৃদ্ধ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৯৯টি ক্লাব ম্যাচে ৩০৬ গোল এবং ইতালির হয়ে ৫৭ ম্যাচে ১৭ গোল রয়েছে তার নামের পাশে।

প্যারিস এফসি তার শেষ ক্লাবের সম্মান পেয়েছে। অফিশিয়াল বিবৃতি ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্লাবটি ইমোবিলের প্রতি শ্রদ্ধায় এক ভিডিও বার্তায় জানায়, ‘৬৫০টির বেশি ম্যাচ, ৩২০টিরও বেশি গোল এবং একাধিক ট্রফি অর্জনের পর চিরো ইমোবিলে তার বিশাল ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানছেন। একজন ব্যতিক্রমী খেলোয়াড় যিনি একাধিক প্রজন্মকে প্রভাবিত করেছেন।’


তার ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল জুভেন্তাসের যুব একাডেমির মাধ্যমে। এরপর পেসকারায় জেদেন জেমানের অধীনে তরুণ বয়সে দুর্দান্ত পারফর্ম করে তিনি পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন। জুভেন্তাস, তোরিনো, বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, সেভিয়া ও বেসিকতাসের মতো ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও তার ক্যারিয়ারের সোনালী সময় কেটেছে লাৎসিওতে।

লাৎসিওর জার্সিতে ৩৪০ ম্যাচে ২০৭ গোল করে তিনি ক্লাবটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে যান। ২০২০ সালে আর্জেন্টিনার গনজালো হিগুয়েনের একক মৌসুমে করা ৩৬ গোলের সিরি আ রেকর্ড স্পর্শ করে তিনি জিতেছিলেন মর্যাদাপূর্ণ ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু, যেখানে তিনি পেছনে ফেলেছিলেন রবার্ট লেভানডভস্কি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো তারকাদের। এছাড়াও চারবার হয়েছেন সিরি আ-র সর্বোচ্চ গোলদাতা।

জাতীয় দলের জার্সিতেও ইমোবিলের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। রবার্তো মানচিনির অধীনে ২০২০ সালের ইউরো জয়ী ইতালি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। যদিও জাতীয় দলের হয়ে তার গোল করার হার নিয়ে অনেক সময় সমালোচনা হয়েছে, তবে তার ট্যাকটিক্যাল ইন্টেলিজেন্স ও কাজের পরিধি ইতালির ওয়েম্বলি ফাইনাল জয় এবং ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলার পথকে দারুণভাবে সহজ করেছিল। 



 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত