ঋণ করে মাছ চাষ, চন্দনাইশে বন্যায় সব হারিয়ে দিশেহারা টিটু দাশ

টানা বর্ষণ ও বন্যায় চট্টগ্রামের চন্দনাইশে মৎস্য খাতে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে লাখ লাখ টাকার মাছ ভেসে যাওয়ায় উপজেলার অসংখ্য মৎস্যচাষি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখে সরকারি-বেসরকারি পুকুর ইজারা নিয়ে মৎস্য চাষ শুরু করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু বন্যার হানা তাদের সেই স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে। প্রবল বর্ষণ ও ঢলের পানিতে উপজেলার মৎস্য অফিসের প্রাথমিক জরিপে প্রায় ১ হাজার ৬৩০টি পুকুর ডুবে প্রায় ২২ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার মাছ ভেসে গেছে। পুকুরগুলোর মাছ ভেসে যাওয়ায় মৎস্যচাষিরা চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন।

তাদেরই একজন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড পূর্ব জোয়ারা এলাকার মৎস্যচাষি টিটু দাশ। এনজিও, ব্যাংক ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ছয়টি পুকুরে মাছ চাষ করেছিলেন তিনি। মাছ বিক্রির ঠিক আগমুহূর্তে বন্যার পানিতে অধিকাংশ মাছ ভেসে যাওয়ায় এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এই মৎস্যচাষি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) উপজেলার মহাজনঘাটা চৌধুরীহাট ও চন্দনাইশ পৌরসভার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য প্রকল্প পরিদর্শনের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন ৪৮ বছর বয়সী টিটু দাশ। 

তিনি বলেন, কয়েকটি ব্যাংক ও এনজিও থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মাছ চাষে বিনিয়োগ করেছিলেন। কয়েক দিনের মধ্যেই মাছ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বন্যার পানিতে তার ছয়টি পুকুরের অধিকাংশ মাছ ভেসে গেছে।

টিটু দাশ বলেন, ধারদেনা করে মাছ চাষ করেছি। ভেবেছিলাম মাছ বিক্রি করে ঋণ শোধ করব। কিন্তু বন্যা সব শেষ করে দিয়েছে। এখন ঋণ কীভাবে পরিশোধ করব, সেই চিন্তায় রাতের ঘুমও হারাম হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, বুকভরা আশা নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছিলাম। কিন্তু বন্যার পানিতে সব মাছ ভেসে যাওয়ায় আমাদের সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহায়তা কামনা করেন তিনি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তানবীর আহসান জানান, প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে, উপজেলার প্রায় ১ হাজার ৬৩০টি পুকুর তলিয়ে গিয়ে প্রায় ২২ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার মাছ ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারিভাবে কোনো সহায়তা বরাদ্দ এলে তা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

সরকারের পাশাপাশি যেসব দাতব্য সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও এনজিও বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনে কাজ করছে, তাদেরও ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।