স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গাইবান্ধা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে দেখা দিয়েছে টানা হেঁচড়া। প্রায় দেড় সপ্তাহ ধরে একই পদে দুই কর্মকর্তা অফিস করছেন। এতে কার্যালয়ের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। দাপ্তরিক নানা জটিলতা সৃষ্টির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সেবাগ্রহীতারা। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকসহ স্থানীয়দের মাঝে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে গাইবান্ধা এলজিইডি কার্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন মো. সাইফুল ইসলাম। সেই থেকে তিনি তার দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে চলতি মাসের ১৫ তারিখে আবদুল আজিজ নামের একজনকে গাইবান্ধা এলজিইডি কার্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে যোগদানের আদেশ দেন ঢাকা হেড অফিস। পরে সেই আদেশ নিয়ে আব্দুল আজিজ চলতি মাসের ২১ তারিখে গাইবান্ধা জেলা কার্যালয়ে নির্বাহী পদে যোগদান করেন। একই আদেশে আগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামকে ঢাকা হেড অফিসে সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু সাইফুল ইসলাম দেড় সপ্তাহ পার হলেও নতুন নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেনি। একই পদে দুই কর্মকর্তা অফিস করছেন। একে কাজ করতে আসা দপ্তরের ঠিকাদার ও অন্য সেবাগৃহীতারা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গাইবান্ধা জেলা এলজিইডি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় দুই কর্মকর্তার অফিস করার দৃশ্য। নির্বাহী চেয়ারে সাইফুল ইসলাম বসে আছেন। আর আব্দুল আজিজ পাশের সোফায় বসে আছেন। তারা দুই জনই নির্বাহী প্রকৌশলী দাবি করছেন। কার্যালয়ের অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ফ্রেসমুডে আড্ডা দিচ্ছেন। নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কে দায়িত্বে থাকবেন, তার হিসাব কষছেন।
নাম প্রকাশ করার না শর্তে এলজিইডির এক কর্মচারী দাবি করেন-গাইবান্ধায় আগের নির্বাহী স্যারই থাকবেন। কারণ আমাদের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মোত্তাকিন স্যারের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জে। শিবগঞ্জে আমাদের দপ্তরের (এলজিইডি) প্রতিমন্ত্রীর গ্রামের বাড়ি। সেই প্রতিমন্ত্রীর ছেলের সাথে মোত্তাকিন স্যার লবিং করছেন আগের স্যারকে গাইবান্ধা কার্যালয়ে থাকার জন্যে। তাই বড় স্যার দায়িত্ব হস্তান্তর করতে বিলম্ব করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঠিকাদার বলেন, সম্প্রতি আমি একটি রাস্তার কাজ শেষ করেছি। তার বিল জমা দিবো। বড় স্যারের স্বাক্ষর লাগবে। কিন্তু গাইবান্ধা কার্যালয়ে দুইজন ব্যক্তি নির্বাহী প্রকৌশলী দাবি করছেন। কার কাছে যাবো বুঝতে পারছি না। সাইফুল স্যার তো ম্যানুয়াল অনুযায়ী কাজের দুই ভাগ টাকা অনুমোদনের সময় নিয়েছে। এখন বর্তমান যিনি ঢাকায় থেকে আসছেন, ওনি যদি আবার আগের জনের হিসাব না মানে, তাহলে ব্যবসায় লালবাতি জ্বলবে।
নির্বাহীকে কিসের জন্য কাজের বরাদ্দের দুই ভাগ (পার্সেন্ট) দিতে হয়, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন ঠিকাদার কাজ পাইলে বরাদ্দের দুই পার্সেন্ট টাকা কাজ শুরুতে দিয়ে নোহা বা কাজের অনুমতি নিতে হয়। এরপর কয়েক দফায় পার্সেন্ট দিয়ে হয়। এটা প্রায় ২০-২৫ বছর হলে দিয়েই আসছি।
সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মোত্তাকিন প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম, নতুন স্যার জেলার বিভিন্ন সাইট পরিদর্শন করেছেন। আগামী সপ্তাহে নতুন স্যার দায়িত্ব পাবেন। এটাই আমি জানি। একটি মহল অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে এলজিইডির বদলিপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বদলির আদেশ চলতি মাসের ১৬ তারিখে মেইলে পেয়েছি। সবেমাত্র আট মাস হয়েছে আমার এই কর্মস্থলে যোগদানের। সাধারণ বদলির বিষয়টি আমি যতদুর জানি আমাদের এক থেকে তিন বছরের মধ্যে বদলি হয়। তবে হঠাৎ করে বদলি করার কোন মানে হয়। দপ্তরে আমার অসম্পূর্ণ অনেক কাজ আছে। সেগুলো সম্পূর্ণ করে ঠিক সময়ে দায়িত্ব বুঝে দিবো। এর মধ্য এমনও খবর আসতে পারে আমি এখানেই বহাল আছি।
অপরদিকে নবাগত এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ বলেন, আমি নতুন এখানে যোগদান করেছি। প্রায় দেড় সপ্তাহ হয়ে যাচ্ছে। আমাকে দায়িত্ব বুঝে দেওয়া হচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।