শিশুদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করার লক্ষে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের লাইফ সেন্টার প্রজেক্টের উদ্যোগে রাজধানীর মিরপুরে দিনব্যাপী বিশেষ আয়োজন ‘রিড-এ-থন’ (READ-A-THON) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে আয়োজনের উদ্দেশ্য ও সার্বিক কার্যক্রমের রূপরেখা তুলে ধরেন লাইফ সেন্টার প্রজেক্টের প্রজেক্ট ম্যানেজার (পিএনএস অ্যান্ড কর্পোরেট) প্রেরণা চিসিম।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিশুদের অংশগ্রহণে আয়োজিত বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও আনন্দঘন প্রতিযোগিতা। ক্ষুদে অংশগ্রহণকারীরা পঠন, অনুচ্ছেদ লিখন, পাজল সমাধান, গল্প বলা এবং সরাসরি কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিযোগিতাগুলো পরিচালনা করেন অ্যাঞ্জেলিকা পলিন গোমেজ ও অন্যান্য ফ্যাসিলিটেটররা।
প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বিভিন্ন লার্নিং সেন্টারের শিশুদের অংশগ্রহণে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ছিল ‘রংধনু লার্নিং সেন্টার’-এর উদ্বোধনী নৃত্য, ‘আলোর দিশা লার্নিং সেন্টার’-এর কবিতা আবৃত্তি, ‘সূর্যমুখী লার্নিং সেন্টার’-এর শিক্ষার গুরুত্ব ও সামাজিক শিখনভিত্তিক নাটিকা এবং পাপেট ড্যান্স এবং ‘প্রজাপতি লার্নিং সেন্টার’-এর শিশুদের প্রাণবন্ত অ্যাকশন গান।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক প্রতিনিধি নাজমা আক্তার বৃষ্টি, অভিভাবক প্রতিনিধি শিল্পী বেগম এবং শিশু প্রতিনিধি মাহফুজা ও ইশা বক্তব্য রাখেন। তারা শিশুদের শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন, আত্মবিশ্বাসের বিকাশ এবং লার্নিং সেন্টার থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানস্থলে শিশুদের তৈরি বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রী ও সৃজনশীল কার্যক্রম নিয়ে স্টল প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অতিথিরা স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং শিশুদের সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি ও শেখার অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা নেন। স্টলগুলো শিশুদের আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীল বিকাশের একটি প্রাণবন্ত চিত্র তুলে ধরে।
সমাপনী পর্বে শিশুদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী, পরিচালক (পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগ), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর; মো. জয়নাল আবেদীন, সহকারী পরিচালক (প্রাক-প্রাথমিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা), জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, ঢাকা; খান মানছুরা আক্তার টুইন; লিমা হান্না দারিং, ডিরেক্টর, অপারেশন অ্যান্ড টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ; এবং মোহাম্মদ কামরুজ্জামান কালাম, হেড, এডুকেশন প্রোগ্রাম, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ।
মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী বলেন, 'আজকের অনুষ্ঠানের শিশুদের সৃজনশীল কাজের প্রদর্শনী আমাকে অত্যন্ত মুগ্ধ করেছে। তাদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা, নাচ, গান, আবৃত্তি এবং বিভিন্ন কবিতার প্রকাশ সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি বিশ্বাস করি, এখানকার এই শিশুরাই একদিন দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে।'
তিনি শিশুদের উদ্দেশে আরও বলেন, 'কোনো অবস্থাতেই তোমরা যেন পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ো। শিক্ষাজীবনে কোনো ধরনের সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হলে অবশ্যই তোমাদের বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশকে জানাবে। আমরা সবাই চাই, তোমরা নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাও এবং নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাও। কারণ শিক্ষা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত জীবনের নয়, দেশের উন্নয়ন ও নেতৃত্ব গড়ারও অন্যতম ভিত্তি।'
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি উপস্থিত সম্মানিত অতিথিদের হাতে কৃতজ্ঞতার স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন জেনি মিলরেড ডি’ ক্রুজ, ডেপুটি ডিরেক্টর, ফিল্ড অপারেশনস (দক্ষিণাঞ্চল বাংলাদেশ ক্লাস্টার) এবং জোয়ানা ডি’রোজারিও, সিনিয়র ম্যানেজার, আরবান প্রোগ্রাম, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ।
শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শিক্ষাবান্ধব ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।