নতুন যুগের পথে ব্রাজিল

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে একটি সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে চলেছে। আসন্ন ২০২৮ কোপা আমেরিকাকে সামনে রেখে দল পুনর্গঠনের বড় পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন সেলেসাওদের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম জিই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নেইমার জুনিয়র, কাসেমিরো এবং দানিলোর মতো অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত তারকাদের জাতীয় দলের আগামী পরিকল্পনা আর রাখা হচ্ছে না।

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের বিদায়ের পর ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড নেইমার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার সান্তোসের হয়ে কোপা সুদামেরিকানার ম্যাচ শেষেও একই কথা বলেন তিনি। অন্যদিকে, ৩৪ বছর বয়সী মিডফিল্ডার কাসেমিরো ও ৩৫ বছর বয়সী ডিফেন্ডার দানিলো আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর না নিলেও, তাদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার যে শেষের পথে, তা কোচের বক্তব্যে পরিষ্কার।

নেইমারের অবসরের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘নেইমারের মতো খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্তের প্রতি আমার পূর্ণ সম্মান রয়েছে। একটি প্রজন্মের সমাপ্তি ঘটে এবং আরেকটি নতুন প্রজন্মকে আসতে হয়, যাদের আগের প্রজন্মের চেয়েও ভালো হতে হবে।’

বিশ্বকাপে নেইমারের উপস্থিতি ও ইনজুরি প্রসঙ্গে আনচেলত্তি জানান, টুর্নামেন্টের আগে অনুশীলনে পুরোপুরি প্রস্তুত হতে না পারাটা কিছুটা আক্ষেপের বিষয় ছিল। তবে দলের প্রতি নেইমারের মনোভাব ও গুরুত্ব নিয়ে তার কোনো অভিযোগ ছিল না। এ নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘শারীরিক সমস্যার কারণে মাঠের টেকনিক্যাল খেলায় তিনি হয়তো প্রত্যাশা অনুযায়ী অবদান রাখতে পারেননি, তবে তার মনোভাব ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক। ২৬ জনের স্কোয়াডে তাকে রাখাটা সঠিক সিদ্ধান্তই ছিল।’

তরুণদের নিয়ে দল গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সেলেসাওদের কোচ বলেন, ‘আমার মনে হয় এই বিশ্বকাপটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রজন্মের সমাপ্তি চিহ্নিত করেছে। নেইমার থেকে শুরু করে দানিলো, কাসেমিরো; যারা এই বিশ্বকাপে ৩০ বছরের বেশি বয়সী ছিলেন, তাদের সবার জন্যই এটি প্রযোজ্য। আমরা এখন নতুন খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করব। ২০৩০ বিশ্বকাপ নয়, আমাদের প্রথম লক্ষ্য ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকা, আর সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো তরুণদের আমরা দলে সুযোগ দিতে চাই।’

২০০২ সালের পর থেকে ব্রাজিলের বৈশ্বিক শিরোপা-খরা কাটানোর লক্ষ্যেই মূলত এই বড় রদবদল। তবে রাতারাতি পুরো দল বদলে ফেলা হচ্ছে না জানিয়ে কোচ জানান, তরুণদের মধ্যে অভিজ্ঞতার ভারসাম্য রাখতে মার্কিনহোসের মতো দু-একজনকে নতুন চক্রেও রাখা হতে পারে। আগামী সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে ব্রাজিলের এই নতুন অধ্যায়ের যাত্রা।