অস্ট্রেলিয়ায় সম্মানের জন্য লড়বে বাংলাদেশ

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:২৬ এএম

সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ভুলে গেলেন, ঠিক কত বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত একজন মনে করিয়ে দিলেন, ২৩ বছর হয়েছে। এরপর দীর্ঘশ্বাস ছাড়তে দেখা গেল শান্তকে। ২০০৩ সালে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। এরপর আর বনেদি এই সংস্করণ খেলতে ডাকেনি অজিরা! প্রায় দুই যুগ পর সেদেশে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দেশের হয়ে ১০০ টেস্টের বেশি খেলা মুশফিকুর রহিমেরও সেখানে টেস্ট খেলার ভাগ্য হয়নি। এজন্য এবারের লড়াইটা শুধু ব্যাটে-বলের হিসাবে দেখছে না বাংলাদেশ। সেখানে সম্মানের জন্য লড়বে সফরকারীরা।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই দুই ম্যাচের সিরিজ খেলতে আজ রাতে ডারউইনের উদ্দেশে রওনা করবে বাংলাদেশ টেস্ট দলের বড় একটি অংশ। যাওয়ার আগে অধিনায়ক শান্ত বলেন, ‘নিজেকে খুবই ভাগ্যবান ভাবছি। অস্ট্রেলিয়াতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলব। আমার মনে হয়, গত ২৩ বছরে আমাদের আরও বেশি ম্যাচ খেলা উচিত ছিল। যদিও আমরা টেস্টে অত ভালো খেলিনি। আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে হয়তো অস্ট্রেলিয়াতে আরও বেশ কিছু টেস্ট খেলার সুযোগ হতো আমাদের।’ এরপরই শান্ত যোগ করেন, ‘মূল লক্ষ্য থাকবে, ভালো ক্রিকেট খেলে কীভাবে সম্মানটা আনতে পারি। যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারি, আবার হয়তো ডাকবে। প্রতি ম্যাচই জেতার জন্য খেলি, প্রতি মানুষই সেজন্য খেলে। কতটা তাদের টাফ টাইম দিতে পারি, এই জিনিসটা জরুরি। যদি এভাবে ২ ম্যাচ খেলতে পারি, হয়তো সামনে আরও বেশি বেশি খেলার সুযোগ পেতে পারি।’

আগামী ১৩ আগস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ ডারউইনে। এই ভেন্যুতে সর্বশেষ ২০০৩ সালের সফরে একটি টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ দল। সে দলের কেউই অবশ্য এখন খেলেন না। এর ওপর এই ভেন্যুতে ২০০৪ সালের পর আর টেস্ট ম্যাচ মাঠে গড়ায়নি। এ জন্য সেখানকার কন্ডিশন নিয়ে খুব ভালো ধারণা নেই বাংলাদেশ দলের। এর ওপর বৃষ্টির কারণে প্রস্তুতিতে ঘাটতি পড়েছে। তবু আশার কথা শোনান শান্ত, ‘সত্যি বলতে, কন্ডিশন নিয়ে তেমন কোনো ধারণা নেই। অ্যানালিস্ট আমাদের কিছু তথ্য দিয়েছেন। যতটা পেয়েছি, আমার মনে হয়, তা ভালো। তবে বৃষ্টির কারণে প্রস্তুতি সেভাবে নিতে পারিনি। যতটা সম্ভব হয়েছে, চেষ্টা করেছে সবাই।’

বাংলাদেশের সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে এখন অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন মুমিনুল হক, সাদমান ইসলামরা। এই কোচের কাছ থেকে তারা কন্ডিশন আর উইকেট সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে শান্ত এসব জানেন না বলেই দাবি করেন, ‘(আমার সঙ্গে যোগাযোগ) এখনো হয়নি। যদি দরকার পড়ে, অনেক বছরের বোঝাপড়া আছে। যদি কোনো খেলোয়াড়ের দরকার হয়, তাহলে তারা যোগাযোগ করার চেষ্টা করবে।’

এই সিরিজের জন্য পূর্ণশক্তির দল দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। পেস বিভাগে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউডের মতো তারকারা আছেন। স্পিন বিভাগে ফিরেছেন নাথান লায়ন। ব্যাটিং বিভাগ রাঙাবেন ট্রাভিস হেড, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভ স্মিথ, ক্যামেরুন গ্রিনরা। অথচ এমন একটি দলের মুখোমুখি হতে বোলিং বিভাগের সেরা অস্ত্র নাহিদ রানাকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। অন্তত প্রথম টেস্টে নেই শরিফুল ইসলাম ও নির্ভরযোগ্য ব্যাটার লিটন দাস। তবে এসব নিয়ে আক্ষেপ করতে চান না শান্ত, ‘চোটের বিষয়টা কারোরই নিয়ন্ত্রণে নেই। যেকোনো সময় যে কারও হতে পারে। যে দলটা আমাদের অস্ট্রেলিয়াতে যাচ্ছে, এই দলের ওপর পুরোপুরি বিশ্বাস আছে যে, এই দলটা নিয়ে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারব। কোন খেলোয়াড় থাকলে ভালো হতো আর কোন খেলোয়াড় থাকলে আরও ভালো হতো, এগুলো (হিসাব) আমার মনে হয় না যৌক্তিক হবে। দল নিয়ে কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, কতটা বিশ্বাস রাখতে পারি, এটা বেশি জরুরি। আমার মনে হয়, যা আমাদের আছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত