এশিয়ান গেমসে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের দলের সঙ্গে কারা যাবেন, আর কারা বঞ্চিত হচ্ছেন এ নিয়েই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন করে স্বার্থের সংঘাত। অনেক ক্রীড়া ফেডারেশনে এ নিয়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। বর্তমান কমিটিতে নেই, এমন কর্মকর্তাদের নাম পরিবর্তনের দাবি তুলছেন কেউ কেউ। আবার কেউ আগের তালিকাই বহাল রাখার পক্ষে।
এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ অংশ নেবে ২২টি ডিসিপ্লিনে। এগুলো হলো ক্রিকেট, ফুটবল, আরচারি, অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, ব্যাডমিন্টন, সাইক্লিং, ফেন্সিং, হকি, কাবাডি, কারাতে, টেবিল টেনিস, সাঁতার, সার্ফিং, শুটিং, ভারোত্তোলন, কুস্তি, উশু, গলফ, জিমন্যাস্টিকস, জুডো ও বিচ ভলিবল। গত ৩০ জুন ছিল এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে যাওয়া ক্রীড়াবিদ, কোচ ও কর্মকর্তাদের নাম অন্তর্ভুক্তির শেষ সময়। ওই সময় অন্তর্বর্তীসরকারের সময়ে গঠিত অ্যাডহক কমিটিগুলোই দায়িত্বে ছিল। ফলে তখনকার কমিটির কর্মকর্তাদের নামও এশিয়ান গেমসের জন্য পাঠানো হয়।
কিন্তু এরপর গত ১৮ জুলাই বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ২৭টি ক্রীড়া ফেডারেশনে ফের অ্যাডহক কমিটি গঠন করে। নতুন ঘোষিত কমিটিগুলোর মধ্যে চারটি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পদে আগের কমিটির কর্মকর্তারাই বহাল রয়েছেন। ফেডারেশনগুলো হলো বক্সিং, উশু, কুস্তি ও জিমন্যাস্টিকস। ফলে এশিয়ান গেমসের জন্য আগে পাঠানো এসব ডিসিপ্লিনের কর্মকর্তাদের নাম বহাল থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
তবে বাকি ফেডারেশনগুলোতে তৈরি হয়েছে জটিলতা। কারণ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দেওয়া না হলেও এবার গঠিত কমিটির মেয়াদ বেঁধে দেওয়া হয়েছে মাত্র তিন মাস। অথচ এই তিন মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো আন্তর্জাতিক গেমস নেই বললেই চলে। ফলে নতুন কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, আন্তর্জাতিক গেমসে যাওয়ার সুযোগ যদি আগের কমিটির কর্মকর্তারাই পান, তাহলে নতুন কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা কোথায়?
এ নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন। তিনি বলেন, ‘আমাদের তিন মাসের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ, এই তিন মাসে কোনো গেমস নেই। আগে যারা ছিলেন, তারা অনেক গেমসে গিয়েছেন। আবার এবারও যাওয়ার জন্য নাম দিয়েছেন। তাহলে আমরা কেন এসেছি কমিটিতে? তাই আমরা এশিয়ান গেমসে কর্মকর্তাদের নাম পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে (বিওএ) পাঠিয়েছি।’
সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজলও কর্মকর্তাদের নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যারা চলে গেছে, তারা কেন এশিয়ান গেমসে যাবে? তারা তো কমিটিতেই নেই। তাই আমরা বিওএতে নাম পরিবর্তনের চিঠি দিয়েছি।’ একই দাবি জানিয়ে টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল হক সাদী বলেন, ‘শুধু আমরাই নয়, অধিকাংশ ফেডারেশনই চিঠি দিচ্ছে নাম পরিবর্তনের জন্য।’
তবে এখানেই সামনে এসেছে আরেকটি প্রশ্ন, গত ৩০ জুন নাম অন্তর্ভুক্তির সময়সীমা শেষ হওয়ার পর এখন কি কর্মকর্তাদের তালিকায় পরিবর্তন আনা সম্ভব? বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এবিএম শেফাউল কবির বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব।’ এখন সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। এশিয়ান গেমসের মতো বড় আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে কারা থাকবেন, তা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে চলমান এই টানাপড়েন শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, সেটিই দেখার বিষয়। তবে কর্মকর্তাদের পদ-পদবি কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাত যেন কোনোভাবেই ক্রীড়াবিদদের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সে প্রভাব না ফেলে, এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।