খুলনার কয়রার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর তীব্র স্রোত ও জোয়ারের চাপে বাঁধের একটি অংশ দ্রুত ক্ষয় হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে চলতি বর্ষা মৌসুমে যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা লবণাক্ত পানিতে প্লাবিত হতে পারে।
উপকূলীবাসী জানায়, ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের কোবাদক ফরেস্ট স্টেশনের পাশের সরকারি পুকুর সংলগ্ন গোলখালী এলাকায় কয়েকদিন ধরে বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। প্রতিটি জোয়ারে নদীর প্রবল স্রোতে বাঁধের পাদদেশ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বাঁধটি ভেঙে গেলে দক্ষিণ বেদকাশীর কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘের এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। অতীতেও একাধিকবার এই বাঁধ ভেঙে লবণাক্ত পানিতে এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। সেই দুর্ভোগের স্মৃতি স্থানীয়দের এখনও তাড়া করে বেড়ায়। তাই নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাদের।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ভাঙনকবলিত স্থানটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সাতক্ষীরা-২ বিভাগের ৩৮ নম্বর প্যাকেজের আওতায় বাস্তবায়নাধীন টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। তবে প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও ভাঙন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য দিদারুল ইসলাম অভিযোগ, ছয় মাস আগে একইস্থানে ভাঙন দেখা দিলে স্থানীয়ভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাজের মান ভালো না হওয়ায় আবারও প্রায় ২০ মিটার এলাকায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।
উপকূলীবাসী জানায়, হাজার কোটি টাকার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে প্রকল্পের সুফল প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও সম্পদ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর বাঁধ ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আমির হামজা বলেন, তিন নদীর মোহনায় অবস্থানের কারণে জোয়ারের সময় প্রচণ্ড পানির চাপ তৈরি হয়। এখনই কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
এবিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড, সাতক্ষীরা-২ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই স্থানে ঠিকাদারি কাজ দেরিতে শুরু হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা হবে।