তীব্র গরমে মসজিদে নববির খতিবের বার্তা

আজ মসজিদে নববির জুমার খুতবায় শায়খ ড. সালাহ আল-বুদাইর মুসলমানদের তাকওয়া অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তীব্র গরম মানুষকে জাহান্নামের আগুনের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কারণ জাহান্নামের আগুন দুনিয়ার আগুনের তুলনায় অনেক বেশি প্রখর। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলো, জাহান্নামের আগুন আরো অধিক উত্তপ্ত, যদি তারা বুঝত।’ (সুরা তওবা ৮১) 

মসজিদে নববির খতিব হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, জাহান্নাম তার প্রতিপালকের কাছে অভিযোগ করেছিল যে, তার এক অংশ অন্য অংশকে গ্রাস করছে। তখন আল্লাহ তাকে বছরে দুটি নিঃশ্বাস নেওয়ার অনুমতি দেন। একটি শীতকালে এবং অন্যটি গ্রীষ্মকালে। মানুষের অনুভূত প্রচণ্ড গরম ও তীব্র শীত সেই নিঃশ্বাসেরই প্রভাব। আজ (৩১ জুলাই) মসজিদে নববিতে জুমার নামাজের আজান দিচ্ছেন মুয়াজ্জিন। ছবি: ওয়াকালাতুল আম্বাইস সুয়ুদিয়্যাহ

শায়খ সালাহ আল বুদাইর বলেন, একজন মুসলমানের উচিত তাকওয়া অবলম্বন করা, গুনাহ থেকে দূরে থাকা এবং আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ফিরে এসে জাহান্নামের আগুন থেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করা।

তিনি বলেন, মানুষকে তার সামনে অপেক্ষমাণ আখেরাতের জীবনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। যে ব্যক্তি সৎকাজ সঞ্চয় করেছে, সে সফল হবে। আর যে অবহেলা করেছে, সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রকৃত সফল সেই ব্যক্তি, যে উপদেশ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং পরকালের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে। আজ (৩১ জুলাই) মসজিদে নববিতে জুমার নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। ছবি: ওয়াকালাতুল আম্বাইস সুয়ুদিয়্যাহ

খুতবার দ্বিতীয় অংশে মসজিদে নববির খতিব প্রচণ্ড গরমে মানুষের তৃষ্ণা নিবারণে ঠাণ্ডা পানি পান করানোর ফজিলত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তৃষ্ণার্ত মানুষকে পানি পান করাতে অবহেলা করা উচিত নয়। এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ নেক আমল।

তিনি এ প্রসঙ্গে একটি হাদিসে কুদসি উল্লেখ করেন, যেখানে মহান আল্লাহ কেয়ামতের দিন বান্দাকে স্মরণ করিয়ে দেবেন যে, তার অসুস্থ বান্দাকে দেখতে যাওয়া, ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া এবং তৃষ্ণার্তকে পানি পান করানো মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনেরই মাধ্যম। আজ (৩১ জুলাই) মসজিদে নববিতে জুমার নামাজ আদায় শেষে মুনাজাত করছেন মুসল্লিরা। ছবি: ওয়াকালাতুল আম্বাইস সুয়ুদিয়্যাহ

খুতবার শেষাংশে তিনি মুসলমানদের পারস্পরিক সহমর্মিতা ও মানবিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। বিশেষ করে তীব্র গরমের সময় দরিদ্র, অসহায় ও দুর্বল মানুষের খোঁজখবর নেওয়া, তাদের সাহায্য করা, সদকা প্রদান, রাস্তাঘাট, মসজিদ ও বাজারে পানির ব্যবস্থা করা, জনসাধারণের জন্য পানির কূপ ও পানির ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতি উৎসাহিত করেন।

তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করে বলেন, যে ব্যক্তি এমন পানির ব্যবস্থা করবে, যেখান থেকে মানুষ, পশু-পাখি কিংবা অন্য কোনো প্রাণী উপকৃত হবে, তবে মহান আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাকে এর প্রতিদান দেবেন।