পরিচ্ছন্নতা ইসলামের সৌন্দর্য। সুস্থতারও ভিত্তি। আর মুখের পরিচ্ছন্নতা সৌন্দর্যের অন্যতম অংশ। ইসলাম এই বিষয়টিকে শুধু স্বাস্থ্যগত দিক থেকে দেখেনি। ইবাদতের সঙ্গেও যুক্ত করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত মেসওয়াক করতেন। তিনি উম্মতকেও এর প্রতি উৎসাহিত করেছেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসলমানরা এই সুন্নত পালন করে আসছেন। আধুনিক বিজ্ঞানও মেসওয়াকের বহু উপকারিতার কথা তুলে ধরছে। এ কারণে দাঁত ও মুখের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জনে মেসওয়াকই সেরা।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে আমি তাদেরকে প্রত্যেক নামাজের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’ (সহিহ বুখারি)
অন্য এক হাদিসে তিনি বলেছেন, ‘মেসওয়াক মুখকে পবিত্র করে এবং রবকে সন্তুষ্ট করে।’ (সুনানে নাসায়ি)
মেসওয়াকের বিশেষত্ব এর প্রাকৃতিক গঠনে। আরাক (পিলু) গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করার খুব প্রচলন রয়েছে। এই ডালের অগ্রভাগ চিবিয়ে নরম করলে তা অসংখ্য সূক্ষ্ম তন্তুতে পরিণত হয়। এই তন্তুগুলো দাঁতের ফাঁক, মাড়ির কিনারা এবং দাঁতের পৃষ্ঠ পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে মাড়িতে কোমলভাবে চাপ সৃষ্টি করে। এতে রক্তসঞ্চালনও বাড়ে।
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, আরাক গাছের মেসওয়াকে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা মুখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এর মধ্যে রয়েছে সিলিকা, প্রাকৃতিক ফ্লোরাইড, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, সালফার এবং বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিজ্জ যৌগ। এসব উপাদান দাঁতের ওপর জমে থাকা ময়লা দূর করতে সহায়তা করে। দাঁতের বাইরের আবরণকে সুরক্ষা দিতেও ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি মুখের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মেসওয়াকে প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো মুখে থাকা ক্ষতিকর কিছু জীবাণুর বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির প্রদাহ এবং মুখের দুর্গন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত জীবাণুর বিরুদ্ধে এর ইতিবাচক ভূমিকার কথা বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। ফলে নিয়মিত মেসওয়াক ব্যবহার করলে মুখ দীর্ঘ সময় সতেজ থাকে।
মেসওয়াক ব্যবহারের সময় চিবানোর কারণে মুখে লালারসের নিঃসরণও বাড়ে। এই লালারস মুখের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি মুখের অম্লতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ক্ষতিকর জীবাণুর বিস্তার কমায়। দাঁত ও মাড়িকে আর্দ্র রাখে। ফলে মুখের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় থাকে।
মেসওয়াকের আরেকটি বিশেষ দিক হলো, এটি একই সঙ্গে দাঁত, মাড়ি ও জিহ্বার পরিচ্ছন্নতায় ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ব্যবহারে দাঁতের ওপর জমে থাকা প্লাক কমে। মাড়ির প্রদাহের ঝুঁকিও হ্রাস পায়। এ কারণে আধুনিক দন্তচিকিৎসাবিষয়ক বিভিন্ন গবেষণায় মেসওয়াকের ইতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়েছে।
সুতরাং মেসওয়াকের শ্রেষ্ঠত্ব কেবল এর স্বাস্থ্যগত উপকারিতায় সীমাবদ্ধ নয়। একজন মুসলমান যখন মেসওয়াক ব্যবহার করেন, তখন তিনি একই সঙ্গে সুন্নতের অনুসরণ করেন। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখেন। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনেরও চেষ্টা করেন।
এভাবেই মেসওয়াক শরীরের উপকার, সুন্নতের অনুসরণ এবং ইবাদতের সওয়াব, এই তিনটি সৌভাগ্যকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়। তাই যুগের পর যুগ পেরিয়ে গেলেও মেসওয়াকের গুরুত্ব একটুও কমেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর উপকারিতার নতুন নতুন দিক আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
