উত্তর কোরিয়ার তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) কর্মীদের দিয়ে কাজ না করানোর জন্য বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করেছে পশ্চিমা মিত্রদের একটি জোট। তাদের দাবি, বিশ্বব্যাপী প্রতারণা করে অর্জিত এই অর্থ দিয়ে উত্তর কোরিয়া তাদের নিষিদ্ধ পারমাণবিক অস্ত্রের অস্ত্রাগার সমৃদ্ধ করছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) যৌথ এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডের ১৯টি সরকারি সংস্থা এই আশঙ্কার কথা জানায়।
সংস্থাগুলো জানায়, পিয়ংইয়ং (উত্তর কোরিয়ার রাজধানী) তাদের অভ্যন্তরীণ এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা আইটি কর্মীদের অন্যের নাম-পরিচয় চুরি করে কাজ পাইয়ে দিচ্ছে। এরপর তাদের অর্জিত এই অবৈধ অর্থ সরাসরি দেশটির নিষিদ্ধ পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
যৌথ বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের দূরশিক্ষণভিত্তিক বা রিমোট আইটি কর্মীদের প্রতারণামূলক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করতে এখন এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে পিয়ংইয়ং। এসব কর্মী কেবল অবৈধ অর্থ সংগ্রহই করছে না, বরং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় অনলাইন গোয়েন্দাগিরি এবং সাইবার অপরাধের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া দীর্ঘ দিন ধরে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারকে সমর্থন করে আসছে। এমনকি ২০২৩ সালে নিজেদের সংবিধানেও পারমাণবিক দেশের মর্যাদা অন্তর্ভুক্ত করেছে তারা। একাধিক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে নিজেদের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা মেটাতে দেশটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাইবার অপরাধ, ক্রিপ্টোকারেন্সি (ডিজিটাল মুদ্রা) চুরি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
শুক্রবারের এই সতর্কবার্তায় বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার আইটি কর্মীরা সাধারণত নিজেদের অন্য দেশের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং ও কাজের প্ল্যাটফর্ম থেকে রিমোট কাজ জোগাড় করে। এরপর প্রাপ্ত বেতন সরাসরি নিজ দেশের সরকারি সংস্থায় পাঠিয়ে দেয়।
আন্তর্জাতিক কর্মকর্তারা গুরুত্ব দিয়ে জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানে গোপনীয়ভাবে অনুপ্রবেশ করে উত্তর কোরিয়ার এসব কর্মী অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। তারা করপোরেট তথ্য চুরি, ডিজিটাল মুদ্রা দখল ও সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
মিত্র দেশগুলোর জোটটি জানায়, নিজেদের প্রকৃত পরিচয় লুকাতে এবং কাজ পাওয়ার সুযোগ বাড়াতে পিয়ংইয়ংয়ের কর্মীরা এখন নিত্যনতুন চতুর কৌশল ও এআই ব্যবহার করছে। এই প্রতারণা রুখতে বেসরকারি খাতের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ও ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে কর্মী শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া কঠোর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানা যায়, নিজেদের আসল অবস্থান ঢাকতে তারা উত্তর কোরিয়া ছাড়াও চীন, রাশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এক ধরনের ‘ল্যাপটপ ফার্ম’ গড়ে তোলে। সেখানে থাকা কোম্পানিগুলোর দেওয়া ল্যাপটপ বা ডিভাইসে উত্তর কোরিয়ান কর্মীরা ভিপিএন ব্যবহার করে দূর থেকেই যুক্ত হয় ও কাজ সম্পন্ন করে।
ইতিপূর্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছিল। সর্বশেষ এই যৌথ সতর্কবার্তায় পৃথিবীর সব সংস্থাকে অবিলম্বে তাদের কর্মী নিয়োগের পরিচয় যাচাই এবং হার্ডওয়্যার পরীক্ষার প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠোর করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা