মরক্কো সীমান্ত অতিক্রম করে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় ঢোকার চেষ্টাকালে অন্তত ৫৭ জন অভিবাসনপ্রার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ জল ও স্থলপথে সীমান্ত পেরিয়ে সেউতায় প্রবেশ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্পেনের সরকার।
আঞ্চলিক সিভিল গার্ড অফিসারদের একটি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান রশিদ সবিহি জানান, মৃতদের অনেকেই সমুদ্রে ডুবে গেছেন। এছাড়া সীমান্ত তল্লাশি চৌকির কাছে তারাযাল সৈকতের ব্যারিকেড পেরিয়ে ভেতরে ঢোকার সময় ধাক্কাধাক্কি ও পদদলিত হয়ে অনেকের মৃত্যু হয়। মরক্কো অংশ থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ সাঁতরে সেউতায় পৌঁছান বহু মানুষ।
পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর মানবিক সংকট’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে রশিদ সবিহি বলেন, অভিভাবকহীন শিশুসহ হাজার হাজার মানুষ রাস্তার ফুটপাতে ঘুমাচ্ছেন। অন্যান্যরা দিশেহারা হয়ে শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুক্রবার (৩১ জুলাই) দ্রুত সেউতা সফরে যান স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেন, স্পেনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের এই ঘটনায় সরকার সব ধরনের সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে। সীমান্ত পেরিয়ে আসা ব্যক্তিদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এদিকে মরক্কো কর্তৃপক্ষ সীমান্তে জলকামান ব্যবহার করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেছে। সংঘর্ষে পুড়ে যাওয়া বাস ও গাড়ির অবশিষ্টাংশ দেখা গেছে সীমান্ত এলাকাজুড়ে।
সেউতা কর্তৃপক্ষ জানায়, সম্প্রতি স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের পর এই অনুপ্রবেশ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। রায়ে বলা হয়েছিল, সমুদ্রপথে আসা অভিবাসনপ্রার্থীদের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া তৎক্ষণাৎ ফেরত পাঠানো যাবে না। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ জানান, পাচারকারী চক্রগুলো এই রায়ের ভুল ব্যাখ্যা বা গুজব ছড়িয়ে তরুণ ও পরিবারগুলোকে প্ররোচিত করেছে। তবে মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন, সাধারণ অভিবাসনপ্রার্থীরা এই আইনি খুঁটিনাটি সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লেইন এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘আইন অমান্য করে কাউকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ঢুকতে দেওয়া হবে না। বিপজ্জনক সীমান্ত পারাপার বন্ধ করতে হবে এবং পাচারকারী নেটওয়ার্কগুলোকে ধ্বংস করতে হবে।’
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্স স্পেনের ফেরত পাঠানোর পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন। ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা স্পেনকে সাহায্য করতে প্রস্তুত এবং স্পেনের সঙ্গে নিজস্ব সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে। অন্যদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তাঁর দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে স্পেনের সঙ্গে ‘শেনজেন’ মুক্ত-সীমান্ত চুক্তি স্থগিত করার হুমকি দিয়েছেন।
সেউতার আঞ্চলিক প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জানালেও স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিবাসন সংকটে জরুরি অবস্থা প্রযোজ্য নয়; তবে সীমান্ত রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সৈন্য পাঠানো হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
