অস্ট্রেলিয়ার একটি পাবলিক লাইব্রেরি থেকে ধার নেওয়া ‘অ্যান্টিকুইটিজ অব এথেন্স’ নামক একটি বই দীর্ঘ ১৫০ বছর পর ফেরত দেওয়া হয়েছে, যার বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও লাইব্রেরির পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা হিসাব করলে দাঁড়ায় প্রায় ২৮, হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ লাখ টাকা)।
গত সপ্তাহে সমুদ্র উপকূলীয় শহর কিয়ামার লাইব্রেরিতে জমা দেন এক ব্যক্তি। বাড়ি সংস্কারের সময় একটি বন্ধ ফায়ারপ্লেসের ইটের ভেতরে লুকানো চায়ের কাঠের বাক্স থেকে তিনি বইটি উদ্ধার করেন।
কিয়ামা লাইব্রেরির ব্যবস্থাপক মিশেল হাডসন জানান, বইটি সময়মতো ফেরত না দেওয়ার জরিমানা বর্তমান মূল্য অনুযায়ী প্রায় ১৮ লাখ ৭০ হাজার ভারতীয় রুপি (প্রায় ২৮ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার) হতে পারে, যা বাংলাদশি টাকায় প্রায় ২৪ লাখ টাকা।
লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার সময়কার নিয়ম অনুযায়ী বইটির ভেতরে ছাপানো প্রতি সপ্তাহে তিন পেনি হারে বিলম্ব ফি এবং মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে এই হিসাব করা হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাডসন বলেন, ‘এত পুরোনো কোনো বই আগে কখনো আমাদের লাইব্রেরিতে ফেরত আসেনি।’ তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসরণ করা বিভিন্ন লাইব্রেরিতে সাধারণত ৩০ বা ৪০ বছর বিলম্বে বই ফেরত আসার ঘটনা দেখা যায়, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি গুছানোর সময় পাওয়া যায়।
তবে বইটি কে ধার নিয়েছিলেন, তা আর জানা সম্ভব নয়। কারণ, ১৮৭০-এর দশকে কোন ব্যক্তি কখন কোন বই নিয়েছিলেন—সেসব তথ্য সংরক্ষিত থাকা লাইব্রেরির ধার রেজিস্টারটি হারিয়ে গেছে।
হাডসনের ভাষায়, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোগ হারিয়ে গেছে। বইটিতে এমন কোনো তথ্য নেই, যা থেকে শেষবার এটি কে নিয়েছিলেন তা জানা যায়।’
লাইব্রেরির তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী, নতুন বই ধার নেওয়ার আগে আগের বই ফেরত দিয়ে সব বকেয়া পরিশোধ করতে হতো। এছাড়া যে পরিবারে অন্তত ছয়জন সদস্য পড়তে জানেন বলে পরিচিত ছিলেন, শুধু সেই পরিবারই সর্বোচ্চ তিনটি বই ধার নিতে পারত। মদ্যপ অবস্থায় কেউ লাইব্রেরিতে এলে তাকে বই দেওয়া হতো না।
চিমনির পাশে দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় বইটি পানির সংস্পর্শে এসে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি ছিল লাইব্রেরির প্রাথমিক প্রায় এক হাজার বইয়ের সংগ্রহের ৫০৬ নম্বর বই। মিশেল হাডসনের ধারণা, লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার কয়েক বছরের মধ্যেই বইটি হারিয়ে গিয়েছিল।
বর্তমানে বইটি কিয়ামা লাইব্রেরির স্থানীয় ইতিহাস সংগ্রহশালায় প্রদর্শনের জন্য সংরক্ষণ করা হবে। এ প্রসঙ্গে হাডসন বলেন, ‘এবার আর বইটি কাউকে ধার দেওয়া হবে না। আমরা চাই না, এটি ফেরত পেতে আবার ১৫০ বছর অপেক্ষা করতে হোক।’