জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত কাজী মোতাহার হোসেন জন্ম দিন আজ। ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে বর্তমান কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানার অন্তর্গত লক্ষ্মীপুর গ্রামে নানা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পৈতৃক নিবাস ফরিদপুরে পাংশা থানার বাগমারা গ্রামেই তার লেখাপড়ার হাতেখড়ি সেখানেই। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি পর্যায় তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে পার করেছেন। নিম্ন প্রাইমারি স্কুল থেকে বিএ পরীক্ষা পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন ধাপে বৃত্তি লাভ করেছেন।
১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে আইএসসি, ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম স্থান অধিকার করে অনার্সসহ বিএ এবং ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে দ্বিতীয় শ্রেণিতে প্রথম স্থান দখল করে এমএ পাস করেন। সে বছর কেউ প্রথম স্থান পায়নি। তার স্ত্রী ও পুত্র-কন্যারাও নানান ক্ষেত্রে খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব। ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেমোনেস্ট্রেটর হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নিয়োগ লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংখ্যাতত্ত্ব (স্ট্যাটিস্টকস) বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। তার গবেষণায় উদ্ভাবিত পদ্ধতি সংখ্যাতত্ত্ব শাস্ত্রে ‘হুসাইন চেইন রুল’ নামে পরিচিত।
কর্মজীবনেও কাজী মোতাহার হোসেনের অবদান ও অর্জন কম নয়। বিজ্ঞান শাস্ত্র- শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তিনি একজন মানবতাবাদী এবং সুন্দরের পূজারী। ব্যক্তিজীবনে ধার্মিক, কিন্তু গোঁড়ামীহীন সাহিত্যে ও সাম্প্রদায়িকতার তীব্র বিরোধী ছিলেন। সংগীত ও ক্রীড়াচর্চায় তিনি চিরকালের অনুরাগী। সর্বভারতীয় দাবা চ্যাম্পিয়ন এ ব্যক্তি একসময় বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। দাবাগুরু মোতাহার হোসেন দাবা ছাড়াও লন টেনিস, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন ও সাঁতারেও পারদর্শী ছিলেন। ঠুংরী, খেয়াল, টপ্পা ও সেতারের তালিমও নিয়েছেন বেশ কিছুদিন। সংগীত বিদ্বেষী রক্ষণশীল মুসলিম সমাজের পরিপ্রেক্ষিতে তার এই পদক্ষেপ সাহস ও মুক্তবুদ্ধির পরিচায়ক।
বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের অগ্রপথিক এই ব্যক্তিত্বের বন্ধু স্থানীয় ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হোসেন ও কবি আবদুল কাদিরের মতো ব্যক্তিরা। 'শিখা' পত্রিকার এ সম্পাদক প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ও সুস্পষ্ট প্রতিবাদ ও বক্তব্যের প্রকাশক হিসেবে ছিলেন নির্ভীক।
তিনি জীবনের বিভিন্ন সময় নাসিরুদ্দীন স্বর্ণপদক, বিদ্যাসাগর উপাধি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আজীবন সদস্যপদসহ নানা উপাধি ও পদকে ভূষিত হয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস পদে নিযুক্তিপ্রাপ্ত এ জ্ঞানতাপস ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দের ৯ অক্টোবর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
