দেশের সব ধরনের গান পিপাসুদের পছন্দের গায়ব মনির খান আজ স্পর্শ করলেন জীবনের ৫৫ বসন্ত। ১৯৭২ সালের এই দিনে (১ আগস্ট) ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার মদনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে দেশের কোটি কোটি শ্রোতার হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। বিশেষ করে ‘অঞ্জনা’ গানটির মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
সংগীতের প্রতি ভালোবাসা থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে গান শেখার মধ্য দিয়ে তার সংগীতচর্চার শুরু। পরে ওস্তাদ রেজা খসরুর কাছে সংগীতের প্রাতিষ্ঠানিক তালিম নেন। পাশাপাশি চক্রবর্তী, ইউনুস আলী মোল্লা, খন্দকার এনায়েত হোসেনসহ আরও কয়েকজন গুণী সংগীতজ্ঞের কাছ থেকেও তিনি সংগীতের বিভিন্ন দিক শেখেন। এই দীর্ঘ প্রস্তুতিই পরবর্তীকালে তার সংগীতজীবনের শক্ত ভিত গড়ে দেয়।
১৯৯৬ সালে ‘তোমার কোনো দোষ নেই’ শিরোনামের একক অ্যালবামের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে সংগীতাঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করেন মনির খান। তবে তারও আগে বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত গান পরিবেশন করতেন। প্রথম অ্যালবাম প্রকাশের পরই ব্যাপক সাড়া ফেলেন তিনি। অ্যালবামটির জনপ্রিয়তা তাকে রাতারাতি তারকাখ্যাতি এনে দেয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
প্রায় তিন দশকের সংগীতজীবনে মনির খান প্রকাশ করেছেন ৪৩টি একক অ্যালবাম। এ ছাড়া তিন শতাধিক দ্বৈত ও মিশ্র অ্যালবামে গান গেয়েছেন তিনি। বাংলা চলচ্চিত্রেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য। চার শতাধিক সিনেমায় কণ্ঠ দিয়েছেন এই শিল্পী। পাশাপাশি কয়েক শতাধিক একক মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যা দেশ-বিদেশের বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মনির খান তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। এ ছাড়া দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অসংখ্য সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। বর্তমানেও নতুন গান ও মঞ্চ পরিবেশনার মাধ্যমে শ্রোতাদের কাছে নিয়মিত উপস্থিত হচ্ছেন মনির খান।