আলমারিতে জায়গা না থাকায় বিশ্বকাপ ট্রফি বিক্রি!

সংকট নাকি অহংকার? মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও অফ-দ্য-পিচের নানা বিতর্কে ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় শিরোনামে থাকা ফরাসি ডিফেন্ডার বেনজামিন মেন্দি এবার জন্ম দিলেন নতুন এক ঝড়ের। ২০১৮ সালে ফ্রান্সের হয়ে জেতা বিশ্বকাপ ট্রফির অফিশিয়াল রেপলিকা বা প্রতিকৃতি ট্রফি নিলামে বিক্রি করে দিয়ে বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনকে চমকে দিয়েছেন তিনি। আর এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে ভক্তদের তীব্র তোপের মুখে ট্রল ও ব্যঙ্গের সুরে কড়া জবাবও দিয়েছেন এই ফুটবলার।

আমেরিকান নিলামকারী প্রতিষ্ঠান গোল্ডিনের ‘গ্লোবাল ফুটবল অকশন পার্ট ২’-এর মাধ্যমে নিলামে ওঠা ওই ট্রফিটি বিক্রি হয়েছে ৬২ হাজার ডলারে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার সমান। ক্রীড়া বাণিজ্য বিষয়ক মিডিয়া আউটলেট ‘স্পোর্টুন’ এর তথ্যসূত্র টেনে ফরাসি রেডিও নেটওয়ার্ক ‘আরএমসি’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিক্রি হওয়া এই রেপলিকা ট্রফিটির সঙ্গে মেন্দির নিজের হাতের লেখা ও স্বাক্ষরযুক্ত একটি সত্যতার সনদপত্র ছিল, যা ট্রফিটির সত্যতা ও আসল উৎস পুরোপুরি নিশ্চিত করে।

ট্রফি বিক্রির খবর প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাটে ট্রিকি এক জবাব দেন মেন্দি। সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি কি আমার ট্রফি নাকি আপনাদের? শেষ পর্যন্ত এটি আমারই এবং আমি যা খুশি তা-ই এর সঙ্গে করতে পারি।’ এখানেই থামেননি তিনি; ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি-এর তথ্য অনুযায়ী, ব্যঙ্গ করে তিনি আরও যোগ করেন যে ট্রফিটি তার আলমারিতে অনেক বেশি জায়গা দখল করে নিচ্ছিল! শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে নিজের আরও অনেক শিরোপা নিলামে তোলার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘যাইহোক, বিক্রির জন্য আমার কাছে আরও অনেক ট্রফি রয়েছে।’

মেন্দির এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পেছনের গল্পটাও বেশ দীর্ঘ ও চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ফ্রান্সের সোনালী ট্রফি জয়ের নেপথ্যে স্কোয়াডে ছিলেন তিনি। এর আগে ২০১৭ সালে মোনাকোর হয়ে লিগ ওয়ানের মুকুট জয়ের পর ৫ কোটি ৮০ লাখ ইউরো ট্রান্সফার ফিতে ম্যানচেস্টার সিটিতে নাম লেখান এই লেফট-ব্যাক, যা সেই সময় তাকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ডিফেন্ডারে পরিণত করেছিল। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে চারটি প্রিমিয়ার লিগসহ মোট আটটি বড় ট্রফি নিজের ঝুলিতে পুরেছিলেন তিনি। ফ্রান্স জাতীয় দলের জার্সিতেও ১০টি ম্যাচ খেলেছেন এই ডিফেন্ডার।

তবে ২০২১ সালে ধর্ষণ চেষ্টার গুরুতর অভিযোগে তার ক্যারিয়ারে নেমে আসে অন্ধকার এক অধ্যায়। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে আদালত তাকে সব অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ খালাস দিলেও আইনি লড়াই ও কারাবাসের ধকল তার ক্যারিয়ারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় মাঠের বাইরে থাকার পর ফরাসি ক্লাব লোরিয়ঁ হয়ে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ এবং বর্তমানে পোল্যান্ডের ক্লাব পোগন শেচিনের হয়ে খেলছেন তিনি, যেখানে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত তার চুক্তি রয়েছে।

ট্রফি বিক্রির অর্থ কি নিছকই খামখেয়ালিপনা নাকি ক্যারিয়ারের কোনো লুকানো প্রভাব? সেই উত্তর হয়তো মেন্দির নিজের কাছেই সেরা জানা। তবে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত এই চরিত্রের প্রতিটি পদক্ষেপে যে নতুন কোনো নাটক লুকিয়ে থাকে, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন এই ফরাসি ফুটবলার।