জিদানদের ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয়: নেপথ্যের অন্ধকার সত্যি ফাঁস

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:০০ পিএম

ফুটবল বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর ও বিতর্কিত এক অধ্যায় ফের টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। ঘরের মাঠে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ জিতেছিল ফ্রান্স। সেই সোনালী অর্জনের আড়ালে থাকা এক অন্ধকার ও চমকপ্রদ সত্য এবার প্রকাশ্যে এনেছেন দেশটির সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী মারি-জর্জে বুফে।

দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সত্য অস্বীকার করার পর অবশেষে ফরাসি নেটওয়ার্ক বিএফএমটিভি-র সম্প্রচারিত ‘জিদান, দ্য মেকিং অব আ লেজেন্ড’ নামক নতুন তথ্যচিত্রের সুবাদেই মূলত এই চাঞ্চল্যকর অস্বীকার ও পেছনের সত্য উন্মোচিত হয়েছে। ১৯৯৮ সালের কিংবদন্তি চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে তৈরি এই তথ্যচিত্রের সামনে জিনেদিন জিদান ও ফরাসি জাতীয় দলের ওপর থেকে বিশ্ব আসরের আগে আকস্মিক ডোপিং পরীক্ষা স্থগিত করার বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেন তিনি।

এর আগে ২০১৩ সালে একটি সিনেট কমিটির সামনে কঠোর শপথ নিয়ে মারি-জর্জে বুফে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, এমন কোনো নির্দেশিকা বা হস্তক্ষেপ তারা কখনোই করেননি। কিন্তু সাম্প্রতিক মুক্তি পাওয়া এই তথ্যচিত্রের সুবাদেই তার সেই পুরনো প্রতিবাদের জোরেশোরে অবসান ঘটে এবং তিনি তার অবস্থান থেকে ইউটার্ন নেন।

এই বিতর্কের সূত্রপাত মূলত ১৯৯৭ সালে আল্পসের তিগ্নেসে ফরাসি দলের ট্রেনিং ক্যাম্পে একটি আকস্মিক ডোপিং পরীক্ষার পর থেকেই। যদিও সেবার সব খেলোয়াড়ের পরীক্ষার ফল নেতিবাচক এসেছিল, তবুও তৎকালীন কোচ আইমে জ্যাকে ও ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ) সেই পরীক্ষা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। তাদের দাবি ছিল, এই ধরনের পরীক্ষা দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রকের পক্ষ থেকে তিগ্নেসে ডোপিং পরীক্ষা পরিচালনা করতে যাওয়া চিকিৎসক ড. অ্যালাইন গানিয়ের জানিয়েছেন, তাকে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন বিশ্বকাপের আগে 'লেস ব্লুজ' শিবিরকে আর বিরক্ত করা না হয়। অর্থাৎ, কোনো ধরনের সারপ্রাইজ টেস্ট করা যাবে না।

এই প্রসঙ্গে সাবেক মন্ত্রী মারি-জর্জে বুফে স্বীকার করে বলেন, ‘ড. গানিয়ের যদি এমনটা বলে থাকেন, তবে তা অবশ্যই সত্য। আমরা হয়তো ঠিক এই ভাষায় কথাটি বলিনি, কিন্তু এর মূল অর্থ একই ছিল। এটি ছিল পেছনের দিকে এক পদক্ষেপ। তবে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর আমরা পুনরায় ডোপিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর লড়াইয়ে ফিরে আসি।’

ড. গানিয়েরের মতে, এই নির্দেশ সরাসরি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়োনেল জসপির কার্যালয় (মাতিগন) থেকে এসেছিল। মজার বিষয় হলো, ১৯৯৮ সালের সেই আসরের পরদিনই অর্থাৎ ১৯৯৯ সালে ফ্রান্সে ডোপিংবিরোধী কঠোর আইন প্রণয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন এই মারি-জর্জে বুফে নিজেই। তবে অতীতের সেই ক্ষণস্থায়ী ছাড় ও রাজনৈতিক চাপের কথা স্বীকার করায় ফুটবলের রোমান্টিক ইতিহাস এখন নতুন এক প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড়াল।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত