আরশের ছায়া পাবে যে যুবক

যৌবন অমূল্য নেয়ামত। শক্তি, সাহস, উদ্যম ও স্বপ্ন দেখার সময় যৌবনকাল। আবার এই সময়টিই সবচেয়ে বড় পরীক্ষার সময়। প্রবৃত্তির টান, শয়তানের কুমন্ত্রণা, বন্ধুদের প্রভাব, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং চারপাশের ফেতনা একজন যুবককে সহজেই বিপথে নিয়ে যেতে পারে। তাই ইসলাম যৌবনকালকে আমানত হিসেবে দেখেছে। এই আমানতের যথাযথ ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার, যে কথা চিন্তা করলেই একজন মুমিনের হৃদয় আনন্দে ভরে ওঠে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ সেদিন তার আরশের ছায়ায় স্থান দেবেন, যেদিন তার আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না।’ এরপর তিনি সাত শ্রেণির কথা উল্লেখ করেন। তাদের অন্যতম হলেন সেই যুবক, যে তার যৌবনের সময়কে আল্লাহর ইবাদতে অতিবাহিত করেছে। (সহিহ বুখারি)

এই হাদিসে একটি বিষয় গভীরভাবে লক্ষণীয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু ‘ইবাদতকারী ব্যক্তি’ বলেননি, বরং বিশেষভাবে যুবকের কথা উল্লেখ করেছেন। কেন? কারণ যৌবনে আল্লাহর আনুগত্যে অবিচল থাকা সহজ নয়। এ সময়ে প্রবৃত্তির আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি, গুনাহের সুযোগও বেশি। তাই যে যুবক এই কঠিন সময়েও আল্লাহকে ভয় করে, নামাজ আদায় করে, হারাম থেকে নিজেকে রক্ষা করে এবং দ্বীনের পথে অটল থাকে, তার মর্যাদা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মহান।

কেয়ামতের দিনের কথা কল্পনা করুন। সূর্য মানুষের মাথার খুব কাছে থাকবে। মানুষ ঘামে ডুবে যাবে। কেউ নিজের ঘামে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত, কেউ হাঁটু পর্যন্ত, কেউ কোমর পর্যন্ত, আবার কেউ মুখমণ্ডল পর্যন্ত নিমজ্জিত থাকবে। ভয়, উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তায় মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়বে। সেই ভয়াবহ দিনে যখন কোনো গাছের ছায়া থাকবে না, কোনো অট্টালিকার আশ্রয় থাকবে না, কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তিও কাউকে রক্ষা করতে পারবে না, তখন মহান আল্লাহ কিছু সৌভাগ্যবান বান্দাকে তার আরশের ছায়ায় স্থান দেবেন। কত বড় সৌভাগ্য এটি!

এই সুসংবাদের অধিকারী যুবক কে? তিনি এমন যুবক, যার দিনের শুরু হয় ফজরের নামাজ দিয়ে। কোরআন তেলাওয়াত যার হৃদয়কে প্রশান্ত করে। পাপের সুযোগ সামনে এলেও যে আল্লাহর ভয়ে নিজেকে সংযত রাখে। বন্ধুদের চাপের কাছে নত স্বীকার না করে যে হালাল-হারামের সীমারেখা মেনে চলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল কিংবা ইন্টারনেটকে গুনাহের মাধ্যম না বানিয়ে কল্যাণের কাজে ব্যবহার করে। সে জানে, মানুষ তাকে না দেখলেও আল্লাহ তাকে দেখছেন।

আজকের যুগে এই হাদিসের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। অশ্লীলতা এখন মোবাইলে পৌঁছে গেছে। মিথ্যা, প্রতারণা, অহংকার, অপচয় ও আত্মপ্রদর্শন যেন স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। এমন বাস্তবতায় যে যুবক নিজের দৃষ্টি সংযত রাখে, ভাষাকে পবিত্র রাখে এবং চরিত্রকে হেফাজত করে, সে নিঃসন্দেহে নবীজি (সা.)-এর সুসংবাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য চেষ্টা করছে।

লেখক : শিক্ষক, মাদরাসাতুদ দাওয়াহ আশ-শরইয়্যাহ, নারায়ণগঞ্জ