গ্যাস সংকট কাটছে

শিগগির এলএনজি টার্মিনাল চালু হচ্ছে কাল বা পরশু

আগামী এক বা দুদিনের মধ্যে গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি সোম বা মঙ্গলবারের মধ্যে ত্রুটি সারিয়ে ফের গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে পারবে বলে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিজিসিএল) সূত্র জানিয়েছে।

মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনাল দিয়ে দৈনিক অন্তত ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। কিন্তু টার্মিনালটির একটি বয়লারে আগুন লেগে গত ২১ জুলাই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। প্রথম দুই থেকে তিন দিন টার্মিনালটির ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে দেশীয় বিশেষজ্ঞরা কারণ জানতে পারেনি। সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য এবং রোমানিয়ার বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে এসে টার্মিনালটি পর্যবেক্ষণের পর কাজ শুরু করে।

গত সপ্তাহে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সাংবাদিকদের বলেন, রবিবারের মধ্যে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে। যদিও কারিগরি বিষয় হওয়াতে একেবারে রবিবার থেকেই গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে কি না, সে বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করেননি তিনি।

আরপিজিসিএল চট্টগ্রাম কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা গতকাল শনিবার বিকেলে টেলিফোনে জানান, আমাদের চেষ্টা ছিল রবিবার থেকেই সরবরাহ করার। কিন্তু কাজ শেষ হতে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন হচ্ছে। তিনি আশা করেন সোমবার থেকেই সরবরাহ শুরু হবে। তবে কোনো কারণে কাজ শেষ না করতে পারলে মঙ্গলবার থেকে সরবরাহ শুরু করা হবে। প্রথম দিন ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হবে। তবে তিন থেকে চার দিনের মধ্যে আরও ২৫০ থেকে ২৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা অর্জন করবে টার্মিনালটি।

আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, টার্মিনালটির ১৫ মিনিটের অগ্নিকাণ্ডে একটি বয়লারের পেছনের ওয়্যারিং আংশিক পুড়ে গেছে। নানা ধরনের ডিটেক্টর, ক্যাবল, লাইটসহ কিছু যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। এ ধরনের শিপ বা জাহাজ বিশ্বমানের হওয়াতে কোনো কিছুর সংস্কার মানে পুরোপুরি খুলে ফেলে নতুন কিছু সংযোজন করা। একই সঙ্গে পুরো ব্যবস্থা যাচাই-বাছাই করা। শনিবার পর্যন্ত কাজের বেশ ভালো অগ্রগতি হয়েছে। তবে শেষ হতে আরও দুদিন সময় প্রয়োজন হবে।

আরপিজিসিএল কর্মকর্তা বলেন, টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে। একটি বয়লার চালু করে সেটিকে স্থিতিশীল অবস্থায় নিতে তিন থেকে চার দিন সময় প্রয়োজন হবে। এরপর দ্বিতীয় বয়লারটি চালানো হবে। প্রথম বয়লার চালাতে পারলেই ৩০০ ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করা যাবে। দ্বিতীয়টি চালু হলে পূর্ণ সরবরাহ পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, একটি বয়লার অক্ষত রয়েছে। কিন্তু অন্যটি পুড়ে যাওয়ার সঙ্গে বয়লারের নিয়ন্ত্রণ সুইচ পুড়ে যাওয়াতে অন্যটি দিয়েও গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। তবে অগ্নিকাণ্ডে টার্মিনালের বড় কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানান তিনি।

মহেশখালী উপকূল থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে সাগরের মধ্যে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। দুটি টার্মিনাল দিয়ে দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। দেশে দৈনিক সরবরাহ ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয়। একটি টার্মিনাল সরবরাহ বন্ধ থাকায় ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। গ্যাসের সংকট সামাল দিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমানো হয়েছে। এজন্য লোডশেডিং শুরু হয়েছে। তবে আশা করা যায় আগামী দুদিনের মধ্যে এই সংকট কাটতে শুরু করবে।