মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার হওয়া ১৮ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ অর্থ আত্মসাৎসহ সোর্স মানি লোপাট এবং ঘটনার প্রতিবাদ করায় তথ্যদাতা মারধরের অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকসহ চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলাটি আদালতে দায়ের করেন আবুল খায়ের মজুমদার। মামলা করে বাদী ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আবুল খায়ের মজুমদার অভিযোগ করেন, নারায়ণগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় তিনটি অভিযানের তথ্য উত্তরা সার্কেলের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান এবং বিমানবন্দর সার্কেলের সহকারী উপপরিদর্শক মোহাম্মদ রোকুনুজ্জামানকে অবহিত করেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা, দেড় কেজি হেরোইন ও ২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। কিন্তু জব্দ তালিকায় উদ্ধার করা আলামত ও নগদ অর্থের প্রকৃত পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি এবং যোগসাজশ করে মাদক কারবারি আবুকেও ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া ডিএনসি কর্মকর্তারা তার সোর্সমানি দেননি। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, উদ্ধার করার অর্থ নথিতে উল্লেখ না করে শুধু ৫০ হাজার টাকার কথা বলা হয়। ইয়াবার কথা বলা হয় ২০ হাজার ও হেরোইন ৪০০ গ্রাম। বাকিগুলো আত্মসাৎ করা হয়। তিনি সোর্স মানি দাবি করার পাশাপাশি প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়। বাধ্য হয়ে তিনি ৬ জুলাই আদালতে ডিএনসির উপপরিচালক শামিম আহমেদ, উত্তরা সার্কেল পরিদর্শক জিল্লুর রহমান, উপপরিচালক মো. শামীম ও অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম শওকত ইসলামকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলার পর ডিবিকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এ ছাড়া এই ঘটনায় ডিএনসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। আসামিদের মধ্যে জিল্লুর রহমানকে প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হলে বাকিদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা।
জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামীম আহম্মেদ জানান, একটি অসাধু চক্র কর্মকর্তাদের সুনাম নষ্ট করতে একজন মাদক কারবারিকে দিয়ে আদালতে একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন। এতে করে ওই কর্মকর্তারা বদলি হয়ে গেলে চক্রের অবৈধ কার্যক্রমে কোনো বাধা না আসে, যা মাদকের বিরুদ্ধে অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে ব্যাহত করার একটি অপচেষ্টা।