র‌্যাবের ‘বন্দিশালা’ দেখলেন ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) পরিচালিত ‘আয়নাঘর’ বা ‘গোপন বন্দিশালা’ পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতিরা।

গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাব-১ সদর দপ্তরে টিএফআই (টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন) নামে পরিচিত এই সেল তারা পরিদর্শন করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার, দুই সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, অন্যান্য প্রসিকিউটর, তদন্ত কর্মকর্তা, মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন এবং ‘মায়ের ডাক’র সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে ছিলেন তাবারক হোসেন, আমির হোসেন (ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন) ও হামিদুল মিসবাহ।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২১ জুলাই বিচারকার্য আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করা এবং বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবনের জন্য ট্রাইব্যুনাল-১ এই বিচারিক পরিদর্শনের অনুমতি দেয়। পরিদর্শন শেষে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। কথা বলেন আইনজীবীরাও।

তিনি বলেন, ‘বিচার শুধু কাগজপত্র ও সাক্ষ্যের ওপর নির্ভরশীল নয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শনও বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ’। তিনি বলেন, ‘টিএফআই সেল ছিল নির্মম টর্চার সেল। সেখানে ছোট-বড় ২৯টি কক্ষ রয়েছে। নিচে একটি ছোট ও সংকীর্ণ কক্ষ রয়েছে, যেখানে একজন মানুষের লম্বা হয়ে শোয়ারও সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ‘সাক্ষ্যপ্রমাণে দেখা গেছে, এসব কক্ষে মানুষকে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর হাত-চোখ বেঁধে আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো। গুমের শিকার বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ (এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) ও ব্যারিস্টার আরমান (এখন সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাশেম আরমান) এই সেলে ছিলেন। এরপর সালাহউদ্দিন আহমদকে ভারতে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। কাউকে দীর্ঘদিন পর বিভিন্ন মামলায় ছেড়ে দেওয়া হলেও অনেককে হত্যা করা হয়েছে।’

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আটক ব্যক্তিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির কিংবা পরিবারকে জানানোর বিধান মানা হয়নি। ফলে বেআইনিভাবে আটক রাখা, হত্যা ও গুমÑ এ সবই মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পড়ে। তিনি জানান, ইলিয়াস আলী (বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক)-সহ গুমের শিকার আড়াই শতাধিক মানুষের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বর্তমান ও সাবেক ১২ সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-১ এ একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটি রয়েছে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে।

অ্যাডভোকেট তাবারক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘টিএফআই কোনো নির্দিষ্ট স্থান নয়। এটি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি টাস্কফোর্স, যেখানে র‌্যাবের দায়িত্ব ছিল সচিবালয়-সংক্রান্ত কাজ। তাই টিএফআই বলতে নির্দিষ্ট কোনো ভবনকে বোঝানো যায় না।’