না কালিদাস, না সমর সেন, এই মেঘবার্তা নিয়ে এলো পিটাইটিকর স্কুলের হেড মিস্ট্রেস, নীলপরী। আমার শিশুদের পড়ায়। সে শ্রাবণের, বৃষ্টির খবর জানে। জানে ঝড়ের খবর। যা জানত রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুলও।
না কালিদাস, না রবীন্দ্রনাথ, না নজরুল—কেউই জানত না, মেঘ অশ্লীল। যেহেতু শিশুরা প্রজাপতির মতো ওড়ে, পাখির মতো গান গায়, নদীর ঢেউয়ের মতো সুর আওড়ায়, তাই নীলপরীকে ব্যবচ্ছেদ করা উচিত। সময়ের দাবি। ডাকো রবীন্দ্রনাথকে, ডাকো নজরুলকে, কবিরকে ডাকো। এই হলো তদন্ত কমিটি। সভাপতি রবীন্দ্রনাথ। জাতি আশা করছে, পুরো ঋতুচক্রটিই নিষিদ্ধ ঘোষিত হোক। বর্ষা অশ্লীল, শীত অশ্লীল, হেমন্ত অশ্লীল... সব নিষিদ্ধ হোক।
আমি আমার শিশুর মুখে চুমু খেয়ে ঘুমাতে যাই। স্বপ্নে দেখি, পৃথিবীর সব বই থেকে অক্ষর উড়ে যাচ্ছে, শব্দ উড়ে যাচ্ছে, বাক্য উড়ে যাচ্ছে। দেখি, অক্ষরের সঙ্গে, শব্দের সঙ্গে, বাক্যের সঙ্গে উড়ে যাচ্ছে আমার শিশুরা।