কুমিল্লার মেঘনা ও তিতাস উপজেলার সীমান্তবর্তী নদীবেষ্টিত প্রত্যন্ত চর বিনোদপুর (আলীপুর)-চর কাঠালিয়া (নতুন ভাটারা) এলাকায় সীমানা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চার সন্তানের জননী কোহিনূর বেগম হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ১১টায় মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের আলীপুর বাজার এলাকায় স্থানীয় ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
নিহত কোহিনূর বেগম গোবিন্দপুর ইউনিয়নের চর বিনোদপুর গ্রামের কাবিল মিয়ার স্ত্রী।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।
উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুদ মুন্সীর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সাহাব উদ্দিন, বশির আহমেদ, আব্দুল মালেক, ডা. জাকির হোসেন, হাবিবুল্লাহ মেম্বারসহ স্থানীয় কয়েক হাজার নারী-পুরুষ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন তিতাস উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওসমান গনি ভূঁইয়া, সালাউদ্দিন সরকার এবং মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম মিন্টুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
মেঘনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মেঘনা ও তিতাস থানার পুলিশ যৌথভাবে মোতায়েন রয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, মেঘনার এক ইঞ্চি জায়গাও আমরা কাউকে ছাড় দেব না। নিয়ম অনুযায়ী মেঘনা যা পাওয়ার, তা নিশ্চিত করা হবে। মারামারি করে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। কোহিনূর হত্যার বিচার আইনের মাধ্যমেই হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই চর দখলকে কেন্দ্র করে মেঘনা ও তিতাস উপজেলার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় ১০০টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় গলায় টেঁটাবিদ্ধ হয়ে নিহত হন কোহিনূর বেগম।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী কাবিল মিয়া ৬১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে মেঘনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।