শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর ঠিক বাইরে অবস্থিত মাহারা কারাগারে বন্দিদের মধ্যে ভয়াবহ দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, এই দাঙ্গায় একজন বন্দি নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। অতিরিক্ত কয়েদিতে ঠাসা কারাগারটিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা সদস্য এবং এলিট কমান্ডো মোতায়েন করা হয়। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের উপমহাপরিদর্শক সঞ্জীবা মেদাওয়াত্তে। তিনি জানিয়েছেন, কারাগারের ভেতরে শনিবারের দাঙ্গায় কয়েদিরা কয়েকটি ভবন ধ্বংস করেছে। কারাগারের বাইরে মেদাওয়াত্তে সাংবাদিকদের বলেন, কয়েদিরা রান্নাঘর, হাসপাতাল, নতুন নির্মিত একটি পুনর্বাসন ভবন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত ভবন পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং কয়েদিদের নিজ নিজ সেলে ফেরত পাঠাতে আমরা সশস্ত্র বাহিনী ও স্পেশাল টাস্কফোর্সের কমান্ডোদের কাছ থেকে বাড়তি সহায়তা পেয়েছি’।
মাহারা কারাগারের ধারণক্ষমতা প্রায় এক হাজার হলেও, বর্তমানে সেখানে প্রায় ৪ হাজার ১০০ বন্দি রয়েছেন। অর্থাৎ, কারাগারটি তার ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ বন্দি নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। অতিরিক্ত বন্দির চাপ শ্রীলঙ্কার অধিকাংশ কারাগারেই দীর্ঘদিনের সমস্যা। ২০২০ সালের নভেম্বরে একই কারাগারে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল। সেবার ১১ জন কয়েদি গুলিতে নিহত হন এবং প্রায় ১২০ জন আহত হন। দেশটির কারাবন্দিদের তিন-চতুর্থাংশের বেশি বিচারাধীন আসামি, এবং তাদের অধিকাংশই মাদক সংক্রান্ত অপরাধের জন্য আটক রয়েছেন। গত মাসে কর্র্তৃপক্ষ অব্যবহৃত সরকারি ভবনগুলোকে কারাগারে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যাতে বন্দিদের চাপ কিছুটা কমানো যায়। তবে এই দাঙ্গা কারাগার ব্যবস্থাপনার গভীর সমস্যাগুলো আবারও সামনে এনেছে।
এই অস্থিরতার প্রায় এক মাস আগে একই অঞ্চলের আরেকটি কারাগারে দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছিল। নেগোম্বো কারাগারে ওই সংঘাতের ঘটনায় ১০ জন কারারক্ষী ও ২১ জন কয়েদি নিহত হন। আহত হন শতাধিক মানুষ। শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ‘কারাবিদ্রোহ’ বলে আখ্যা দেন। পুলিশ জানিয়েছিল, কারাগারে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত দুই গ্রুপের মধ্যে ওই সংঘাতের ঘটনা ঘটেছিল। কারা কর্মকর্তারা জানান, কারাগারটিতে সে সময় প্রায় ১০ হাজার কয়েদি ছিল।