যে আগুন ছড়িয়ে গেল সবখানে

চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সর্বাত্মক গণআন্দোলনে রূপ নেয় আবু সাঈদের অসীম সাহসিকতায়। ১৬ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলির সামনে বুক পেতে শহীদ হন আবু সাঈদ। মুহূর্তেই এই ঘটনার চলমান চিত্র ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৌঁছে যায় সবার কাছে। নাড়া দেয় দেশের প্রতিটি মানুষের বিবেকে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ তখন নেমে আসেন আসেন রাস্তায়। আবু সাঈদ পরিণত হন জুলাই আন্দোলনের আইকনে।

আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পীরগঞ্জের বাবনপুর গ্রামে ২০০১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মকবুল হোসেন এবং মায়ের নাম মনোয়ারা বেগম। নয় ভাইবোনের অভাবের সংসারে কেবল আবু সাঈদেরই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছিল। পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন শহীদ আবু সাঈদ। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পরীক্ষাতেও ইংরেজি বিভাগে সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে ৩.৩০ পেয়ে মেধা তালিকায় ১৪তম স্থান অধিকার করেছিলেন। স্নাতক শেষ পর্যায়ে এসে জীবনের প্রথম চাকরির পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন। ভীষণ বিনয়ী ও মেধাবী আবু সাঈদ শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। আবু সাঈদের স্মরণে প্রতি বছর ১৬ জুলাই জাতীয়ভাবে জুলাই শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।