জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে আসার পর হঠাৎ যদি একদিন পুরোনো প্রেম এসে দাঁড়ায় আপনার সামনে? যাকে বহু আগে বিদায় জানিয়েছেন, সে যদি ফিরে আসে, তখন কী করবেন? আবেগ আর বাস্তবতার এই টানাপোড়েনে ঠিক কীভাবে সামলাবেন নিজেকে?
‘সে চলে গেছে তবুও যায়নি, যেমন যায় না আসলে কেউ...’ কবীর সুমনের লেখা গানের এই পঙ্ক্তি যে কতটা সত্যি, তা প্রেমিক মন বারবার বোঝে। একবুক ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও যারা প্রিয়জনকে কাছে রাখতে পারেননি, তারা ভীষণভাবে অনুভব করেন এর মর্মার্থ। আসলে সত্যিই তো, চলে যাওয়ার পরও কেউ কেউ ভীষণভাবে থেকে যায়... চেনা রাস্তায়, চেনা গানে অথবা প্রিয় গন্ধে। কিন্তু তাকে মনের এক কোণে গুছিয়ে রাখার বহু বছর পর ফের যদি সে ফিরে আসে?
ঠিক ‘মুসাফির ক্যাফে’র চন্দরের মতো মুখোমুখি হতে হয় হারিয়ে ফেলা ভালোবাসার? বর্তমান সঙ্গীকে কার্যত অস্বীকার করে চন্দরের মতোই প্রাক্তনকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরা উচিত? জেনে নিন এই পরিস্থিতি সামলাবেন কীভাবে।
‘মুসাফির ক্যাফে’ দেখিয়ে দিয়েছে, একবুক ভালোবাসা যে বন্ধন আজীবনের করতে পারে, তা বলা যায় না। দুটি মানুষের স্বপ্ন আলাদা হলে উথালপাতাল প্রেমেও ভাটা পড়ে। প্রতিমুহূর্তে যারা জুড়ে থাকতেন, তাদের পথও আলাদা হয়ে যায়। এক আকাশের নিচেই দুটি মানুষের দুটি আলাদা জগৎ তৈরি হয়। আসে নতুন সঙ্গীও। তবে মনের এক কোণে পুরোনো মানুষটা থেকেই যায়, যে কোণে প্রবেশের অনুমতি পায় না কেউ। আশপাশে বহু মানুষই এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। কেউ প্রাক্তনকে সামনে পেয়ে ভেঙে পড়েছেন। কেউ দূরে সরিয়েছেন, কেউ আবার নতুন করে ভেসে গেছেন প্রেমে। কিন্তু এগুলো কি কাম্য? হয়তো নয়।
এ ক্ষেত্রে নিজের কাছে সৎ হওয়াটা ভীষণভাবে প্রয়োজন। প্রাক্তনের প্রতি আজও কি একই রকম অনুভূতি রয়েছে? নাকি স্রেফ একজন পরিচিত ব্যক্তি? আপনার অনুভূতি খোলাখুলি জানান প্রাক্তনকে। অনুভূতি আড়াল করে যোগাযোগ রাখলেও কিন্তু তা বর্তমান সম্পর্কের ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে। প্রাক্তন ঠিক কী চাইছেন, তা বুঝে নেওয়াও জরুরি। স্রেফ বন্ধুত্ব রাখতেই পারেন, কিন্তু পুরোনো দিনের আলোচনা না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে আলাদা করে দেখা করা বা ঘুরতে যাওয়া– ভুলেও না।
মনে রাখবেন, বর্তমান সঙ্গীর কাছে এটি ভুল বার্তা দিতে পারে। প্রয়োজনে প্রাক্তন ও বর্তমানকে মুখোমুখি দাঁড় করান, কিন্তু লুকোচুরির খেলায় মাতবেন না। তাতে ভেঙে টুকরো হয়ে যেতে পারে সাজানো জীবন।