এশিয়ান গেমসে বৈষম্যের শিকার টিটি!

জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস সামনে রেখে প্রস্তুতি চলছে বাংলাদেশের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় এই আসরে ৪৩টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে বাংলাদেশ অংশ নেবে ২২টিতে। তবে দলগত ইভেন্টে অংশ নেওয়া অন্যান্য খেলার তুলনায় টেবিল টেনিস (টিটি) বৈষম্যের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কারণ, ফুটবল, ক্রিকেট, হকি কিংবা কাবাডির মতো দলগত খেলায় প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত খেলোয়াড় রাখা হলেও টেবিল টেনিসে দলগত ইভেন্ট থাকা সত্ত্বেও পুরুষ ও নারী বিভাগে তিনজনের বেশি খেলোয়াড় নেওয়ার অনুমতি পায়নি ফেডারেশন। কিন্তু এই তিনজনের মধ্যে একজনও ইনজুরিতে পড়লে দলগত ইভেন্ট থেকেই ছিটকে পড়বে বাংলাদেশ। এমন পরিস্থিতিকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এশিয়ান গেমসের ফুটবলে মাঠে খেলা ১১ জনের বিপরীতে ২৩ জন, হকিতে ১১ জনের বিপরীতে ১৮ জন, ক্রিকেটে ১১ জনের বিপরীতে ১৫ জন এবং কাবাডিতে ৭ জনের বিপরীতে নাম গেছে ১২ জনের। টেবিল টেনিসের দলগত ইভেন্টে অংশ নিতে ন্যূনতম তিনজন খেলোয়াড় প্রয়োজন। যাদের নাম গেছে তারা হলেন নারী দলে সোনম সুলতানা সোমা, নওরীন সুলতানা মাহী ও সামান্তা হোসাইন তুশি এবং পুরুষ দলের মোহতাসিন আহমেদ হৃদয়, রামহীম লিয়ন বম ও ইমরুল কায়েস ইমন। স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রাখা হয়েছিল সাদিয়া রহমান মৌ ও জাভেদ আহমেদকে। কিন্তু বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) পুরুষ ও নারী দুই বিভাগেই তিনজন করে খেলোয়াড়ের তালিকা চাওয়ায় অতিরিক্ত কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে নারী দলের সামান্তা হোসাইন তুশি ইনজুরিতে পড়েছেন। ফলে জাতীয় দলের অনুশীলনও শতভাগ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে না। বিষয়টি টেবিল টেনিস ফেডারেশনের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এমএ মাকসুদ আহমেদ সনেট বলেন, ‘এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ একক ইভেন্টের পাশাপাশি দলগত ইভেন্টেও খেলবে। দলগত ইভেন্টে তিনজন খেলতে হয়। তাই ইনজুরির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আমরা একজন অতিরিক্ত খেলোয়াড় নেওয়ার আবেদন করেছিলাম। শুরুতে বিওএ দুইজন করে খেলোয়াড় নিতে বলেছিল। পরে দলগত ইভেন্টের বিষয়টি বিবেচনা করে তিনজন নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু একজন অতিরিক্ত খেলোয়াড়ের সুযোগ দেওয়া হয়নি।’

টেবিল টেনিস ফেডারেশনের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাইদুল হক সাদী জানান, বিষয়টি নিয়ে বিওএর সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। তবে এখন আর তালিকায় নতুন খেলোয়াড় যুক্ত করার সুযোগ নেই, ‘আমরা শুরু থেকেই অতিরিক্ত একজন খেলোয়াড়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছি। তবে বিওএর কথা, যদি যাত্রার আগে মেডিকেল বোর্ড কোনো খেলোয়াড়কে অনুপযুক্ত ঘোষণা করে, তাহলে পরিবর্তনের একটি সুযোগ থাকতে পারে। কিন্তু অসুস্থজনিত করণে তিনজনের কম হয়ে গেলে দলগত ইভেন্টে অংশ নেওয়া সম্ভব হবে না।’ তিনি যোগ করেন, ‘এখনো যদি এশিয়ান গেমস কর্র্তৃপক্ষ সম্মতি দেয়, তাহলে হয়তো কোনো কর্মকর্তার কোটার পরিবর্তে একজন খেলোয়াড় নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত দুইজন খেলোয়াড়ের ব্যয়ও বহনের চিন্তা করা যেতে পারে। তবে সেটি পুরোপুরি আয়োজকদের অনুমতির ওপর নির্ভর করছে।’

টেবিল টেনিস সংশ্লিষ্টদের দাবি, অন্য অনেক দলগত খেলায় অতিরিক্ত খেলোয়াড় রাখা হলেও তাদের ক্ষেত্রে একই সুযোগ না থাকায় বৈষম্য তৈরি হয়েছে। একজন খেলোয়াড় অসুস্থ বা ইনজুরিতে পড়লেই পুরো দলগত ইভেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার ঝুঁকি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য বড় ধাক্কা। তার ওপর পরীক্ষার কারণে সিলেকশন খেলতে না পারায় দলে নেই ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের মিশ্র দ্বৈতে রৌপ্যপদক জেতা সদস্য খই খই মারমা। সিলেকশন-র‌্যাংকিং দ্বন্দ্বে বাদ পড়েছেন রৌপ্যজয়ী দলের আরেক সদস্য জাভেদ আহমেদ।

বিওএর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এবিএম শেফাউল কবীর জানিয়েছেন, বিষয়টি এশিয়ান গেমসের টেকনিক্যাল হ্যান্ডবুকের নির্দেশনা অনুযায়ী হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি ডিসিপ্লিনের জন্য ন্যূনতম খেলোয়াড়সংখ্যা এশিয়ান গেমস কর্র্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে দেয়। যেমন এশিয়ান বিচ গেমসের বিচ ভলিবল ডিসিপ্লিনে দুইজন খেললেও আমাদের দুজনই পাঠাতে হয়েছিল। টেকনিক্যাল হ্যান্ডবুকে সবকিছু উল্লেখ আছে। একজন ইনজুরিতে পড়লে ওই ইভেন্টে খেলতে না পারলেও আমাদের কিছু করার থাকে না। বিওএর সভাপতির নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পাঁচ দফা সভা করে এবং সব দিক বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

এশিয়ান গেমসের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। এমন অবস্থায় টেবিল টেনিস দলের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন  চোট এড়ানো। কারণ একজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিই বাংলাদেশের দলগত স্বপ্ন শেষ করে দিতে পারে।