প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, অবশ্যই আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব। আমরা একসঙ্গে রাজপথে ছিলাম, বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছিলাম, সেভাবে সবাই মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব। বাংলাদেশ সবার। ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যও সবার। গতকাল রবিবার রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটরিয়ামে জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স (জেআরএ) আয়োজিত জুলাই বিপ্লববিষয়ক প্রথম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সম্মেলনে জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং গণভোটের রায় কার্যকরের দাবি জানান।
সবাইকে সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমীন বলেন, আমরা সবাই মিলে সেই বাংলাদেশই চেয়েছিলাম, যেখানে মানবাধিকার, আইন অনুশাসন, বাক-স্বাধীনতা থাকবে। যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে না, গুম-খুন হামলা-মামলা হবে না। যার কারণে দীর্ঘদিন পর প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল যেমন ছিল, ঠিক তেমনি সব শ্রেণিপেশার মানুষ এক হয়ে রাজপথে নেমে এসেছে। গণঅভ্যুত্থানে মায়েদের, বোনদের ছিল অনেক বড় ভূমিকা। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা মিডিয়াম, ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্রছাত্রীরা সেদিন যেমন নেমে এসেছিল, সেখানে ছিল রাস্তার খেটে খাওয়া শ্রমজীবী, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, পোশাকশ্রমিক। ছিল দেশি-বিদেশি প্রবাসী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, আইনজীবীÑ সমাজের এমন কোনো খাত নাই, যেখানে প্রতিনিধিত্ব ছিল না। আপনারা আস্থা রাখুন, অবশ্যই আমরা জুলাই গণহত্যার বিচার করব। সবাই মিলে এ দেশটা গড়ে তুলব।
এর আগে অনুষ্ঠানে জুলাইয়ে শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। শহীদ জাবির ইব্রাহীমের বাবা বলেন, জাবিরের মাকে সংসদে দেওয়া হয়েছে। তিনি গণহত্যার বিচার এবং আপনারা যারা আছেন আপনাদের জন্য সংসদে কথা বলবেন।
শহীদ নাজমুলের স্ত্রী বলেন, আমাদের আমেরিকায় চলে যাওয়ার কথা। আমার স্বামীর শহীদ হওয়ায় আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। আমার খারাপ লাগবে, আফসোস হবে। কিন্তু এই ভেবে আফসোস হয় না, আমার স্বামীর রক্তের বিনিময় বাংলাদেশে নিরীহ মানুষ মুক্তি পেয়েছে।
দীপ্তি চৌধুরী সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, আমাদের সব কিছুর মূল ছিল ফাটল ধারা। আমরা যদি জুলাই ধারণ করতে পারি তাহলে সেই ফাটল ধরবে না।
জুলাইয়ের বিরুদ্ধে কথা বলা সাংবাদিকদের প্রসঙ্গে সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, এর জন্য প্রথমত দায়ী টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। যারা এই লোকগুলোকে কথা বলার জন্য নিয়ে আসছে, তারা আসলে স্বৈরাচারকে এখনো নীরবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।