চীনা চক্রের ফাঁদে মাসে পাচার ২৫০ কোটি টাকা

অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার মাধ্যমে মাসে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা পাচারকারী চক্রের বিদেশি নাগরিকসহ চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। চক্রের কাছ থেকে বিভিন্ন অপারেটরের সক্রিয় ৬ হাজারের বেশি সিমকাড জব্দ করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ছয়তলা ভবন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবির সাইবার ক্রাইম বিভাগ।

গ্রেপ্তাররা হলেন চাকমা জিয়ানা, লিউ হুই জাং, ওয়ে ইউজি ও শে ই রান। তাদের কাছ থেকে ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি স্মার্টফোন, বিভিন্ন অপারেটরের ৬ হাজারের বেশি সচল সিমকার্ড এবং ২০টি গেটওয়ে মেশিন জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৬ বোতল বিদেশি মদ এবং নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা জব্দ করা হয়।

গতকাল রবিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ৬ হাজার সিম ও ডিজিটাল গেটওয়ে ব্যবহার করে চক্রটি ভুয়া অফার ও চাকরির প্রলোভনে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ঝর্ণা নামে এক আদিবাসী নারী ওই পুরো ভবনটি ভাড়া নেন। ওই নারী ভবনের একতলায় থাকতেন। বাকি পাঁচটি ফ্লোর চাইনিজদের কাছে ভাড়া দেন, যেখানে তারা হোটেলের মতো যাতায়াত ও অবস্থান করতেন। চাইনিজ নাগরিকরা সেখান থেকেই উন্নত প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা এবং অনলাইন জুয়ার সাম্রাজ্য চালিয়ে আসছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ভবনের চার ও পাঁচতলার ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে অনলাইন গেটওয়ে ও জুয়াসহ নানা প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। চক্রটি বিভিন্ন সময়ে মোবাইলে লোভনীয় অফার, চাকরি বা অতিরিক্ত আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠাত। এসব বার্তায় থাকা লিংকে ক্লিক করলেই ব্যবহারকারীদের কাছে বিভিন্ন অফার আসত। এরপর অফারগুলোর বিপরীতে গ্রাহকদের থেকে টাকা হাতিয়ে নিতেই ওই গেটওয়েতে প্রায় ৬ হাজার সিম ব্যবহার করা হতো। জব্দ সরঞ্জামগুলোর মধ্যে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার সিম ব্যবহারের উপযোগী সøট পাওয়া গেছে, যেখানে একটি মাত্র মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে ১২টি সিম পরিচালনা করে প্রতারণা চালানো হতো। প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত নিজেদের ডিভাইসের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করায় এতদিন চক্রটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে চক্রটিকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দেশ থেকে মাসে অন্তত ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা অবৈধভাবে পাচার রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম জানান, এই একটি মাত্র গেটওয়ের মাধ্যমেই অনলাইন জুয়া ও নানা অবৈধ উপায়ে মাসে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে পাচার করত। চক্রের চার সদস্যের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও মামলা করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মহানগর ডিবিপ্রধান বলেন, চীনা নাগরিকরা বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন চাইনিজ প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এসব অপকর্ম পরিচালনা করছে। সাধারণ মানুষ না বুঝে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের লোভনীয় প্রলোভনে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে।