সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, হুতি বিদ্রোহীদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য জোটটি গঠিত হয়েছে। এই জোটে যোগ দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, বাংলাদেশ ইরানকে আক্রমণ করতে যাচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গতকাল রবিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সৌদি আরবের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার কারণ হলো হুতিদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা। অন্যদিকে, আমরা ইরানের সঙ্গেও কথাবার্তা বলছি। তাই এটিকে কোনোভাবেই ইরানকে বাদ দেওয়া বা আঘাত করার কিছু হিসেবে দেখার কারণ নেই।’
সৌদিদের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশ কেবল হজ-ওমরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখছে না, এমনটি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, মূল বিষয় হলো মক্কা ও মদিনার দুই পবিত্র মসজিদের রক্ষক হওয়ার কারণে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশেষ একটি সম্পর্ক আছে। ঢাকা ও রিয়াদের এ সম্পর্ক কৌশলগত সম্পর্ক; এটি খুবই মজবুত সম্পর্ক।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, সৌদি আরব যেকোনো সময় যদি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো সহায়তা চায়, বিশে^র অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নৈতিক ও আদর্শিক জায়গা থেকে সবসময়ই সাড়া দেবে এবং সহায়তা করবে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে গত ৩০ জুলাই ৪৩টি দেশের সামরিক প্রতিনিধি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পর ১৪ দেশের ওই জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়। ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিদের হুমকির মুখে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ¦ালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর অঞ্চলের নিরাপত্তায় সৌদি আরবের নেতৃত্বে জোটটি গঠন করা হয়।
জোটে বাংলাদেশ সৈন্য পাঠাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হুতিদের মোকাবিলা করতে যে ধরনের সহায়তা লাগবে এবং বাংলাদেশের যে সামর্থ্য আছে, সে অনুযায়ী সহায়তা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের ঢাকা সফর প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এটি বাংলাদেশের ভারসাম্যের কূটনীতির ধারাবাহিকতা।
গোরের সফরকে একটি পরিচিতি ও অনুসন্ধানমূলক সফর হিসেবে তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম সফর এবং এর উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা। তার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, ভূ-রাজনীতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সহযোগিতাসহ বিস্তৃত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
গোরের সঙ্গে বৈঠকে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে উঠেছিল কি না, এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা এখন একটি অপ্রাসঙ্গিক বিষয়। এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।