কেরানীগঞ্জে গ্রাহকদের অর্ধ কোটি টাকা নিয়ে উধাও সমিতির লোকজন

ঢাকার কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর ইউনিয়নে শতাধিক গ্রাহকের টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছেন একটি সমবায় সমিতির কর্মকর্তারা। গ্রাহকেরা আমানতের টাকা নিতে এসে দেখেন সমিতির কার্যালয় বন্ধ। তারা মুঠোফোনে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছেন না।

প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘ভোরের আলো সমবায় সমিতি লিমিটেড’।

আমানতের টাকা ফেরত পেতে এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবিতে সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার সামনে ভীড় জমিয়েছে ভুক্তভোগীরা।

থানার সামনে ভীড় জমানো ভুক্তোভোগীরা জানান, দুই মাস আগে কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর ইউনিয়নে ভোরের আলো নামে একটি সমবায় সমিতি অফিস করা হয়। সমিতির কর্মকর্তরা সল্প সুদে ও সহজ শর্তে লাখ লাখ টাকা লোন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গত দুই মাসে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে ভর্তি ও সঞ্চয় বাবদ গ্রাহক প্রতি পাঁচ হাজার থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা তোলেন।

এভাবে গত ২ মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বেশি গ্রাহকদের থেকে সংগ্রহ করেন তারা। আজ সোমবার সবাইকে লোন দেওয়ার কথা থাকলেও গত কালকেই অফিস তালা মেরে গ্রাহকদের আমানতের টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় সমিতির কর্মকর্তারা।

ভুক্তভোগী মারজান আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার বাবার চিকিৎসা করাতে প্রায় ৭ লাখ টাকা প্রয়োজন আমাদের। ভোরের আলো ৬ লাখ টাকা লোন দিবে বলে আমাদের কাছ থেকে সঞ্চয় বাবদ ৩০ হাজার টাকা টাকা নেন। আজকে আমাদের লোন পাশ হওয়ার কথা ছিল। গতকালকেই লোকমুখে শুনে তাদের অফিসে গিয়ে দেখতে পাই অফিস তালা মারা। বাবার অপারেশন তো আর করা হলো না, ঔষধ কেনার জন্য জমানো টাকাটা পর্য়ন্ত তারা নিয়ে গেল।

মরিয়ম নামে অপর একজন বলেন, আমার ছেলের বিদেশ যাওয়ার জন্য দশ লাখ টাকা দরকার ছিল। ওরা লোন দেওয়ায় কথা বলে গত কয়েক সপ্তাহে সঞ্চয় বাবদ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। আজকে লোন দেওয়ার কথা কিন্তু গতকালকেই অফিসে গিয়ে দেখি পালিয়ে গেছে। আমার অভাবের সংসার, কি করবো কিভাবে টাকা পাবো বুঝে আসছে না।

সলেমান নামে এক ভুক্তোভোগী বলেন, আমাদের বাড়িতে প্রায় ৮ টা ঘর, সবার থেকেই লোনের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নিসে। কারো ১০ হাজার, কারো ৫০ হাজার। গত দুই মাসে পুরো রোহিতপুর ইউনিয়ন থেকে তারা মিষ্টি ভাষায় কথা বলে অনেক টাকা নিয়েছে। প্রতারণা করে সরল মানুষগুলোর সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছে তারা।

ভুক্তোভোগীরা আরো অভিযোগ করে বলেন, এ ঘটনায় গতকালকেই কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় তারা অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে থানা পুলিশ এখনো তাদের বিষয়টি আমলেই নেয়নি, এমনকি ১ দিন পার হয়ে গেলেও ঘটনাস্থলেও যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার উমর ফারুক বলেন, ঘটনাটি মাত্র শুনলাম, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিবো।