নীলফামারীর ডোমারে ১৩২/৩৩ কেভি জিআইএস গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ন্যায্যমূল্যের দাবি জানিরেয়ছেন ভুক্তভোগী কৃষি জমির মালিকরা।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে ডোমার-পঞ্চগড় আঞ্চলিক সড়কের বড়রাউতা এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালনকালে এ দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জমির মালিক আব্দুল জব্বার, আব্দুল সাত্তার, রবিউল ইসলাম, রশিদা বেগম, মাহাফুজা বেগম, আনসার আলীসহ স্থানীয় জমির মালিকরা।
মানববন্ধন শেষে সেখানে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। এসময় জমির মালিকরা জানান, ঢাকা ও ওয়েস্টার্ন জোন সঞ্চালন গ্রিড এক্সপানশন প্রকল্পের আওতায় ডোমারের দক্ষিণ বড়রাউতা সাহার উদ্দিন পাড়া এলাকায় ১৩২/৩৩ কেভি জিআইএস গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ৪৯৭ শতাংশ আবাদি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। যার এলএ কেস নম্বর ০২/২০২১-২০২২।
তারা বলেন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে পৈতৃক ভিটেমাটি ও জীবিকার একমাত্র সম্বল জমি সরকারের প্রকল্পের জন্য ছেড়ে দিতে তারা সম্মত হয়েছেন। তবে নীলফামারী ভূমি অধিগ্রহণ শাখা প্রতি শতাংশ জমির মূল্য ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে, যা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক কম।
জমির মালিকদের দাবি, ডোমার-পঞ্চগড় আঞ্চলিক সড়কের পাশে অবস্থিত এসব তিন ফসলি আবাদি জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রতি শতাংশ প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। অথচ অধিগ্রহণ শাখা নির্ধারণ করেছে মাত্র ১২ হাজার টাকা। এ মূল্যে অধিগ্রহণের পর সমপরিমাণ জমি কেনা কিংবা বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী জমির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক আব্দুল জব্বার বলেন, আমাদের ৩ ভাইয়ের মিলে সেখানে এক একর ৬ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ওই জমিই আমাদের একমাত্র সহায় সম্বল। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে পৈতৃক ভিটেমাটি ও জীবিকার একমাত্র সম্বল জমি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ছেড়ে দিতে আমরা রাজি হয়েছি। কিন্তু প্রতি শতাংশ জমির মূল্য ১২ হাজার টাকা দিলে ওই টাকায় আমরা কোথাও জমি কিনতে পারবো না। এ নিয়ে আমরা বিভিন্ন অফিস আদালতে গিয়েছি। কিন্তু কেউ আমাদের কথা শুনছেন না। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
জমি মালিক আনছার আলী বলেন, ডোমার-পঞ্চগড় আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এসব তিন ফসলি আবাদি জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রতি শতাংশ প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। অথচ অধিগ্রহণ শাখা নির্ধারণ করেছে মাত্র ১২ হাজার টাকা। এ মূল্যে অধিগ্রহণের পর সমপরিমাণ জমি কেনা কিংবা বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা কোনোভাবে সম্ভব নয়। তাই বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী জমির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
বক্তারা আরও বলেন, স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭ অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে মৌজার গড় মূল্য নির্ধারণে গরমিলের কারণে তাদের জমির প্রকৃত বাজারমূল্য প্রতিফলিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধন শেষে বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন জমির মালিকেরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, ওই জমি অনেক আগে অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এখন আমাদের করণীয় কিছু নেই। জমি মালিকদের দেওয়া স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে। নির্দেশনা পেলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
--