নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তা সেচ খাল ও বিভিন্ন জলাশয়ে অবৈধভাবে মাছ ধরতে পেতে রাখা প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। এসময় দুইজন জালের মালিককে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার চেংমারী ব্রিজ সংলগ্ন তিস্তা সেচ খাল এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে একই স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে উদ্ধার করা জালগুলো ভস্মীভূত করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসন জানতে পারে, তিস্তা সেচ খাল ও আশপাশের জলাশয়ে মাছ ধরার জন্য বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী জাল পেতে রাখা হয়েছে। খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ জাল উদ্ধার করা হয়। এসব জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ধরা হচ্ছিল, যা দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচিত।
উদ্ধারকৃত জাল ভস্মীভূত করা হয় ও উপজেলার রণচন্ডী উত্তর বাফলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের তাহেরের ছেলে সোলায়মান গণিকে ৫০ হাজার এবং একই গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে ইউনুছ আলীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান বলেন, চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে নির্বিচারে মাছ শিকার করায় দেশীয় মাছের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জলজ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে সোমবার (৩ আগস্ট) বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল উদ্ধার করা হয়েছে। জালের দুই মালিককে মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত চায়না দুয়ারী জালের বাজারমূল্য আনুমানিক ২০ লাখ টাকা। পরে জব্দকৃত জাল ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
দেশীয় মাছের অস্তিত্ব রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মৎস্যসম্পদ টিকিয়ে রাখতে অবৈধ চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
