সুন্দর বাংলাদেশ চাই স্বাধীনভাবেই কথা বলতে চাই

সত্যি কথা বলতে, অভ্যুত্থানের সময়ে সবাই ঠিক কী ধরনের প্রত্যাশা ও বিশ্বাস নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন, তা সম্পূর্ণ ধারণা করা কঠিন ছিল। একেকজনের হয়তো একেক ধরনের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ছিল; কিন্তু একটি জায়গায় দেশের সর্বস্তরের মানুষ একবিন্দুতে এসে মিলেছিলেন, সবাই অনুভব করছিলেন দেশে একটি ভয়াবহ স্বৈরাচারী শাসনের শাসন-শোষণ চলছে। আন্দোলনের শেষ দিকে এসে সরকারের সেই নিপীড়ন ও আগ্রাসন এতটাই উগ্র রূপ নেয় যে, সাধারণ মানুষ তীব্রভাবে মুক্তি পাওয়ার আকুতি জানান।

সেই মুক্তি আমরা পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমার স্বপ্ন ছিল মূলত একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সে সময় গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের আশাহত করেছে। বহু ক্ষেত্রে তাদের চরম ব্যর্থতা পরিলক্ষিত হয়েছে। ওই সময় থেকেই দেশে ভয়াবহ মব কালচারের

সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করেছে এবং নারীদের নিরাপত্তা আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, বাউলদের মাজারে হামলা চালানো হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে দেশে উগ্রবাদের উত্থান প্রত্যক্ষ করেছি- যা আমাদের গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষার সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না।

একজন সচেতন সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে বলতে পারি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার কিংবা বর্তমান সরকার- সব সময়েই আমাকে যথেষ্ট সম্মান জানিয়েছে। সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ ও দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আমাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু আমি স্বতঃস্ফূর্তভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেছি।

আমার বিরুদ্ধে একটা অদ্ভুত অভিযোগ আনা হয়েছিল যে, আমি নাকি ২০০ কোটি টাকা কিংবা ২০০ কোটি ডলার পেয়েছি! কেউ যদি সত্যি সেই টাকাটা আমাকে একটু দেখিয়ে দিত, তবে খুবই উপকার হতো। আমি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করা এক মানুষ, এত বিপুল অঙ্কের অর্থের তো আমার কোনো প্রয়োজন নেই; পাঁচ কোটি টাকা পেলেই আমি খুশি হয়ে যেতাম! রূপক এই কটাক্ষের বাইরে আসল কথা হলোÑ আমি কোনো অর্থ বা পদের লোভে আন্দোলনে নামিনি। আমি একটা সুন্দর বাংলাদেশ চাই, স্বাধীনভাবেই কথা বলতে চাই।