টিটি ডিসকাউন্টিংয়ের লিয়েন ব্যবস্থা তুলে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনাকে আরও নমনীয় করতে টিটি (টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার) ডিসকাউন্টিং সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকে চলতি হিসাবে অর্থ লিয়েন রাখার ব্যবস্থা বাতিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমান বাজার ব্যবস্থায় কলমানি, রেপো, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ও আন্তঃব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন উৎস থেকে সহজেই তারল্য সংগ্রহের সুযোগ থাকায় পুরনো এ ব্যবস্থার আর প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। গতকাল সোমবার এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

‘টিটি ডিসকাউন্টিং হলো স্বল্প মেয়াদি তারল্য সুবিধা, যেখানে কোনো তফসিলি ব্যাংক জরুরিভিত্তিতে অর্থের প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে পরিশোধযোগ্য টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফারের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আগাম গ্রহণ করতে পারে। এ আগাম অর্থ দেওয়ার সময় নির্ধারিত হারে ডিসকাউন্ট কেটে রাখা হয়, তাই এই ব্যবস্থাকে টিটি ডিসকাউন্টিং বলা হয়।’

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত চলতি হিসাবে লিয়েন মার্কপূর্বক তফসিলি ব্যাংকগুলোকে দেওয়া টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা বাতিল করা হলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ১৯৯৪ সালে জারি করা নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক এবং যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা নেই সেখানে প্রতিনিধি হিসেবে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা দেওয়া হতো। কোনো ব্যাংকের কাছে উপযুক্ত সিকিউরিটিজ না থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত চলতি হিসাবে লিয়েন রেখে এ সুবিধা গ্রহণের সুযোগ ছিল।

পরবর্তী সময়ে ১৯৯৯ সালে জারি করা নির্দেশনায় টিটি ডিসকাউন্টিংয়ের অনুমোদিত সীমার ২০ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চলতি হিসাবে লিয়েন রাখার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। একই সঙ্গে এ অর্থ বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) হিসাবায়নে অন্তর্ভুক্ত করা হতো না।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন তারল্য চাহিদা পূরণে কলমানি বাজার, রেপো, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ও আন্তঃব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন কার্যকর উপকরণ রয়েছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে লিয়েনের বিপরীতে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধার ব্যবহারও অতি নগণ্য পর্যায়ে নেমে এসেছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, প্রকৃত টিটি ডিসকাউন্টিং না হলেও অনুমোদিত সীমার ২০ শতাংশ অর্থের ওপর লিয়েন বহাল থাকায় এবং তা সিআরআর হিসাবায়নে গণনা না হওয়ায় ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রক অনুপাতের ওপর অপ্রয়োজনীয় প্রভাব পড়ছিল। এ সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে লিয়েনের বিপরীতে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।