তৈরি পোশাকসহ মোট রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২.৪৯ শতাংশ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় সামান্য কমেছে। এ বছর জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানি করে মোট আয় হয়েছে ৪৭২ কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। জুলাই ২০২৫-এ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৪৭৭ কোটি ৫৯ হাজার ডলার। কমেছে শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ (প্রায় ১ শতাংশ)।

দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাত থেকে আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় চলতি বছর জুলাইয়ে আয় কমেছে ১ দশমিক ৯১ শতাংশ। আলোচিত মাসে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৮৮ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। গত বছরের জুলাই মাসে আয় হয়েছিল ৩৯৬ কোটি ডলারের একটু বেশি।

গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

তবে, বিদ্যমান বৈশি^ক জ¦ালানি পরিস্থিতি, যুদ্ধাবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ নানা সংকটের মধ্যেও রপ্তানি খাত একমাস আগের চেয়ে ইতিবাচক আয় করেছে। গত জুনের তুলনায় রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এবং তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ১৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

জুনে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৪২০ কোটি ডলার এবং এরমধ্যে পোশাক রপ্তানি থেকে এসেছে ৩৩৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। জুলাইয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছে ৩৮৮ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। 

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল (প্রবৃদ্ধি ছিল ২৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ)। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই উচ্চ রপ্তানির তুলনায় প্রবৃদ্ধি অর্জন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। সেই উচ্চ রপ্তানির তুলনায় বর্তমান ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার অর্জনকে নেতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু দেশ রূপান্তরকে বলেন, নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি এখন তৈরি পোশাক শিল্প। তীব্র গ্যাস সংকট এবং চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার এই দুঃসময়ে একক মাসে ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার অর্জন একটি ভালো শুরু বলা যায়।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে বিজিএমইএ কর্তৃক সম্পাদিত ইউডি’র পরিমাণ জুলাই ২০২৫-এর তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ রপ্তানিতে চলমান স্থবিরতা দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা, বিশেষ করে জ্বালানি সংকট দূর করতে পারলে আগামী মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধিও উচ্চ ধারা ফিরে আসবে বলে আমরা আশাবাদী।

বাবু বলেন, এজন্য এই খাতে সরকারকে প্রয়োজনীয় নীতি-সহায়তা দিতে হবে।

এদিকে, হোম টেক্সটাইল থেকে আয় সামান্য বেড়েছে। গত জুনে আয় হয়েছিল ৭ কোটি ৫১ লাখ ডলার। জুলাইয়ে বেড়ে হয়েছে ৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। হিমায়িত চিংড়ি ও জীবন্ত মাছ এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় সামান্য বাড়লেও কমেছে কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি আয়। জুলাইয়ে চামড়া খাতের আয় হয়েছে ১৩ কোটি ডলার, কৃষিতে ৮ কোটি ২৩ লাখ ডলার এবং মৎস্য রপ্তানি থেকে ৩ কোটি ৫৭ লাখ ডলার আয় হয়েছে বলে ইপিবি’র তথ্যে জানা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, ২০২৫ সাল এবং চলতি বছরের বাস্তবতায় পার্থক্য রয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে একটি অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় ছিল। ২০২৫ সালের মধ্যভাগের পরে শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে অনেক তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে উৎপাদন কর্মকা- ক্ষতিগ্রস্ত হয়; যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে রপ্তানি আয়ে। ২০২৬ এর শুরুতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসে। বর্তমান সরকার রপ্তানি বাড়াতে বন্ধ কারখানা চালু করার উদ্দেশে অর্থায়ন সুবিধাসহ নীতিগত সুবিধা দিতে পদক্ষেপ নিয়েছে। এই পরিবর্তনে শিল্প সংশ্লিষ্টরা পর্যায়ক্রমে রপ্তানি আয়বৃদ্ধিও প্রত্যাশা করছেন।